দিল্লি— বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। বিজেপির সাংগঠনিক স্তরেও একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশ সফরে যাওয়ার আগেই নতুন মন্ত্রিসভা ও বিজেপির নতুন সাংগঠনিক টিম চূড়ান্ত করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সিশেলস সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁর ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ১ থেকে ৩ জুলাই ভারত সফরে আসছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেই মন্ত্রিসভা রদবদলের সময়সূচি নির্ধারিত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
সূত্রের দাবি, বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নতুন সাংগঠনিক কমিটি ঘোষণার সঙ্গেই মন্ত্রিসভা রদবদলের ঘোষণা হতে পারে। নতুন টিমে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। দলের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি কার্যকর হলে সংগঠন এবং সরকার— দুই ক্ষেত্রেই একাধিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
জানা গিয়েছে, নীতিন নবীন সম্প্রতি কয়েকজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, কয়েকজন মন্ত্রীকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আবার বিজেপির বর্তমান সাংগঠনিক নেতৃত্বের কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের মত, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নতুন নেতৃত্ব আনা প্রয়োজন।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই কারণে এই রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আরও শক্তিশালী করা হতে পারে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভালো ফলের পর এ রাজ্যের কয়েকজন সাংসদও মন্ত্রিসভায় সুযোগ পেতে পারেন বলে সূত্রের দাবি।
এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ও শিব সেনার ভাঙনের পর বিজেপির সঙ্গে থাকা কিছু নেতাকেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নিষ্পত্তির উপর সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাতের পর থেকেই মন্ত্রিসভা রদবদলের জল্পনা আরও জোরালো হয়। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জর্জ কুরিয়ানের ইস্তফার ঘটনাও এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্ষাকালীন অধিবেশন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে।
