কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কেয়ার ট্র্যাকার (PM-FCT) এবং হেলথ পাসপোর্ট প্রকল্পের পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধন করেছেন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গর্ভাবস্থা থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার তথ্য একত্রিত করে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে গান্ধীনগরে চালু হওয়া এই প্রকল্পে স্বাস্থ্য দফতর, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতর এবং শিক্ষা দফতরের তথ্য একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়েছে। পোষণ ট্র্যাকার, চাইল্ড ট্র্যাকিং সিস্টেম (CTS), ABHA আইডি এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে প্রতিটি মা ও শিশুর জন্য একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পানশেরিয়া বলেন, অমিত শাহের উদ্যোগেই তিনটি দফতরকে একত্রিত করে এই সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি জানান, গুজরাট এই প্রকল্পকে সফল করে দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
প্রফুল পানশেরিয়া বলেন, এটি শুধু একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এমন একটি উদ্যোগ যাতে কোনও শিশুই টিকাকরণ বা স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রতিটি শিশুর জন্য ছোটবেলা থেকেই একটি স্বাস্থ্য কার্ড তৈরি হবে, যেখানে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার স্বাস্থ্য, বংশগত রোগ, চিকিৎসা ও অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
এদিন গুজরাটে তিন দিনের পালস পোলিও অভিযানও শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সাল থেকে ভারত পোলিওমুক্ত রয়েছে এবং এই অভিযান শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে অমিত শাহ মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি ভর্তি কিট, প্রি-স্কুল কিট এবং পুষ্টি সহায়তা কিট বিতরণ করেন। ‘মুখ্যমন্ত্রী মাতৃশক্তি যোজনা’-র আওতায় গর্ভবতী মহিলাদেরও পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের দাবি, PM-FCT প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মাতৃসেবা, নবজাতকের স্বাস্থ্য, টিকাকরণ, পুষ্টি, শারীরিক বৃদ্ধি, স্কুলে ভর্তি, উপস্থিতি এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা ও ফলো-আপ ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
