কলকাতা — তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া নেতা তারকেশ্বর চক্রবর্তী কলকাতা পুরসভার ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং ১১ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান। শুক্রবার গভীর রাতে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সার্ভে পার্ক থানায় দায়ের হওয়া দুটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কালীকুমার মজুমদার রোডের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রথম অভিযোগে তারকেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে কাজে বাধা দেওয়া, মারধর, সম্পত্তির ক্ষতি, এক মহিলাকে বিবস্ত্র করার উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগ, ভয় দেখানো, চুরি এবং অনধিকার প্রবেশের মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময়ে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেও পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৩ জুন সার্ভে পার্ক থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি পৃথক প্রথম তথ্য প্রতিবেদন নথিভুক্ত করা হয়। এরপর তদন্তে অগ্রগতি হওয়ার পরই গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, একাধিক অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে আদালতের কাছে তারকেশ্বর চক্রবর্তীর পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং জোরজুলুমের অভিযোগে একাধিক প্রাক্তন তৃণমূল জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার পুরনো বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করেছেন। এরপর একে একে একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ রাজ্যের নগর প্রশাসন এবং পুর রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তারকেশ্বর চক্রবর্তীর গ্রেপ্তার সেই তালিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর থাকবে।
