পুণে — কেতন অগ্রবাল হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এল সিয়া গোয়ল এবং চেতন চৌধরীর সম্পর্কের নতুন তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, একটি ক্রিকেট ম্যাচ থেকেই প্রথম পরিচয় হয়েছিল দু’জনের। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই সম্পর্কের সূত্রপাতের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সিয়ার দাদা সাহিল গোয়লের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিকেট খেলার সূত্রে আগে থেকেই চেতন চৌধরীর সঙ্গে পরিচয় ছিল সাহিলের। নিয়মিত একসঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন তাঁরা। একদিন একটি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে বোন সিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যান সাহিল। সেই ম্যাচেই প্রথম দেখা হয় সিয়া এবং চেতনের। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই তাঁদের মধ্যে পরিচয়ের শুরু এবং পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ক্রিকেট ম্যাচের পর থেকে নিয়মিত ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন সিয়া ও চেতন। গত বছরের দেওয়ালির সময় তাঁদের এক অভিন্ন বন্ধু একটি পার্টির আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে দু’জনই উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, ওই পার্টির পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
এই সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইতিমধ্যেই সিয়ার দাদা সাহিল গোয়লকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। চেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, সিয়া এবং চেতনের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সাহিলের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কেতন অগ্রবালের সঙ্গে সিয়ার বিয়ের সম্বন্ধ যাঁর মাধ্যমে হয়েছিল, সেই নরেন্দ্র মিত্তলকেও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র কেতনের বাবার আত্মীয়। একইসঙ্গে সিয়ার মা পূজা গোয়লের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পুলিশকে নরেন্দ্র জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কেতন এবং সিয়ার বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে দুই পরিবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কথাবার্তা এগোয়। পরে কেতন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা সিয়াদের বাড়িতে যান। সেখানেই পুণের একটি হোটেলে বাগ্দানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানিয়েছেন তিনি।
তবে নরেন্দ্রের দাবি, তিনি শুধুমাত্র দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং বিয়ের আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছিলেন। সিয়া এবং চেতনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। পুলিশ যখন তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করে, তখন তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই সিয়াকে চিনলেও তাঁর এমন কোনও সম্পর্কের কথা তিনি কখনও জানতেন না। এমনকি এই ঘটনায় সিয়ার নাম জড়াবে, সেটাও তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, সিয়া এবং চেতনের সম্পর্ক কতদিনের, সেই সম্পর্কের প্রভাব কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কতটা যুক্ত এবং ঘটনার আগে-পরে তাঁদের যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই সিয়ার আত্মীয়-পরিজন এবং ঘনিষ্ঠ পরিচিতদেরও পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রত্যেকের বয়ান, মোবাইল ফোনের তথ্য, সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে। তদন্ত এখনও চলছে এবং নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
previous post
