কলকাতা — রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার নজর বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে। সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিজেপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে চলেছে রাজ্যের নতুন অর্থনৈতিক নীতির প্রথম বড় রূপরেখা। ফলে এই বাজেটকে ঘিরে প্রশাসনিক মহল থেকে শিল্পমহল— সর্বত্রই কৌতূহল তুঙ্গে।
নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঋণের পরিমাণ ৭ লক্ষ কোটিরও বেশি। রাজ্যের মোট উৎপাদনের তুলনায় ঋণের অনুপাত দেশের অন্যতম উচ্চ স্তরে রয়েছে। প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের অর্থ শুধুমাত্র পুরনো ঋণের সুদ মেটাতেই ব্যয় হয়। ফলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের কাছে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, বাজেটে রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য ঋণ কমানোর একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থ দপ্তরের অধীনে বিশেষ ‘ডেট ম্যানেজমেন্ট সেল’ গঠন করে পুরনো উচ্চ সুদের ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনিক অপচয় কমাতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করা হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, নতুন সরকার সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাতে চাইবে না। বরং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য বিকল্প পথ খোঁজা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বালি ও ছোট খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে যে রাজস্ব ফাঁসের অভিযোগ ছিল, তা রুখতে স্বচ্ছ ই-নিলাম ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা আসতে পারে। এর ফলে সরকারি কোষাগারে অতিরিক্ত আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে বহু বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা সরকারি জমি ও বন্ধ শিল্প সংস্থার জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়ার পরিকল্পনাও বাজেটে গুরুত্ব পেতে পারে। শিল্প বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি এককালীন মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহেও জোর দেওয়া হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ এবং ই-ইনভয়েসিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জিএসটি ফাঁকি রোধে নতুন ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং আয় বৃদ্ধি করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন হবে। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্যে কীভাবে সমন্বয় ঘটানো হয়, তার উপরই আগামী দিনের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ভর করবে।
