31.5 C
Kolkata
June 18, 2026
রাজ্য

জিটিএ দুর্নীতি তদন্ত ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ অনীত থাপার, দার্জিলিং পাহাড়ে জল্পনা

গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) প্রধান নির্বাহী পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা অনীত থাপা। জিটিএর কার্যকলাপে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের ঘোষণা হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে দার্জিলিং পাহাড়ে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে।

২০২২ সালে জিটিএর প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন অনীত থাপা। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

তবে পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি অনীত থাপা। ফলে তাঁর আকস্মিক পদত্যাগের নেপথ্য কারণ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কুর্সিয়ংয়ে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জিটিএর কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিশেষ করে পাহাড়ে জিটিএ পরিচালিত স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আনেন তিনি। সেইসঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কথাও বলেন।

এই ঘোষণার পরদিনই অনীত থাপার পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও তাঁর দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

২০১১ সালে কেন্দ্রের তৎকালীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে জিটিএ গঠিত হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এই স্বশাসিত প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর হয়।

দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কুর্সিয়ং এলাকার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নাগরিক পরিষেবা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে জিটিএ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন এবং গণপূর্ত-সহ প্রায় ৫৯টি দপ্তরের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা রয়েছে এই স্বশাসিত সংস্থার হাতে।

১৯৮৮ সালে গঠিত দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিলের পরিবর্তে জিটিএ চালু হয়। পাহাড়ের উন্নয়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই সংস্থা। সেই কারণে জিটিএর প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

Related posts

Leave a Comment