জয়পুর: বিলুপ্তির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড সংরক্ষণ প্রকল্পে নতুন সাফল্য পেল রাজস্থান। জয়সলমেরের প্রজনন কেন্দ্রগুলিতে আরও তিনটি ছানার জন্ম হয়েছে। এর ফলে বন্দি প্রজনন কর্মসূচির আওতায় থাকা এই বিরল পাখির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪। নতুন জন্ম নেওয়া তিনটি ছানার মধ্যে দুটির জন্ম কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে হয়েছে।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড সংরক্ষণ প্রকল্পের অধীনে এই বন্দি প্রজনন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বন দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, প্রজনন মরসুম এখনও চলমান থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন পাখি প্রজাতিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
ডেজার্ট ন্যাশনাল পার্কের বিভাগীয় বন আধিকারিক ব্রিজমোহন গুপ্ত জানিয়েছেন, নতুন তিনটি ছানার মধ্যে একটি ডিম প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে নিরাপদে সংগ্রহ করা হয়েছিল। বাকি দুটি ডিম কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রজনন কেন্দ্রে পাওয়া যায়। সেই ডিম থেকেই ছানাগুলির জন্ম হয়েছে।
বর্তমানে জয়সলমের জেলার সুদাসারি এবং রামদেবরা— এই দুটি বিশেষ প্রজনন কেন্দ্রে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। বন দপ্তর এবং গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড পুনরুদ্ধার কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে কেন্দ্রগুলি পরিচালিত হচ্ছে।
এই কেন্দ্রগুলিতে বিশেষজ্ঞরা দিনরাত পাখিগুলির উপর নজরদারি চালান। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিম সংরক্ষণ, তা দেওয়া এবং ছানা প্রতিপালনের কাজ করা হয়। সংরক্ষণবিদদের মতে, বন্য পরিবেশ থেকে ডিম সংগ্রহ করার ফলে বন্দি পাখির জনসংখ্যার জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিভিন্ন প্রজনন জোড়া থেকে ডিম সংগ্রহ করায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জিনগত দুর্বলতার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি বন্য পরিবেশে শিকারি প্রাণী বা অন্যান্য বিপদের হাত থেকেও ডিমগুলিকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
ব্রিজমোহন গুপ্ত জানিয়েছেন, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাওয়া। ফলে ভবিষ্যতে আরও সুস্থ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম একটি জনসংখ্যা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে প্রজাতিটির সুরক্ষায় রামদেবরার কাছে প্রায় ৬.২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪ মিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ পথও নির্মাণ করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য পাখিগুলির আবাসস্থলের সংযোগ আরও উন্নত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো।
সাম্প্রতিক তিনটি ছানার জন্মের ফলে দুই প্রজনন কেন্দ্রে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ডের মোট সংখ্যা ৯৪-এ পৌঁছেছে। একসময় বন্য পরিবেশে দ্রুত কমে আসা এই পাখির সংখ্যা বৃদ্ধিকে সংরক্ষণ প্রকল্পের বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন দপ্তরের কর্মকর্তাদের আশা, চলতি প্রজনন মরসুমে আরও ডিম থেকে ছানা ফুটতে পারে। ফলে আগামী দিনে এই বিরল প্রজাতির সংখ্যা আরও বাড়বে এবং রাজস্থানের রাজ্য পাখিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার লড়াই আরও শক্তিশালী হবে।
