সংবাদ কলকাতা: বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, অনুপ্রবেশ রোধ, নদীভাঙন এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আজ উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে খবর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
রাজ্যের চারটি জেলারই বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বিষয় বৈঠকে গুরুত্ব পেতে চলেছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সীমান্তে যেখানে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হয়নি, সেখানে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। গত ২০ মে থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৭ কিলোমিটার এলাকার জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব বেড়াহীন সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করা।
বৈঠকে রাজ্য পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে যৌথ নজরদারি ও তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মালদা এবং মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি বছর বর্ষার আগে এবং বর্ষাকালে গঙ্গা ও অন্যান্য নদীর ভাঙনে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু মানুষের বসতভিটে, কৃষিজমি এবং স্থানীয় পরিকাঠামো নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। ফলে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
একইসঙ্গে বর্ষা মরসুম শুরুর আগে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হবে। জেলা প্রশাসন, সেচ দপ্তর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলির প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক সীমান্ত প্রায় ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে চালানো হয়েছিল। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ধৃত বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে নতুন নীতিও গ্রহণ করেছে। সেই অনুযায়ী, ধৃত ব্যক্তিদের সরাসরি আদালতে পেশ না করে প্রথমে নির্দিষ্ট হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে। পরে তাঁদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
আজকের বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা মোকাবিলা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে সীমান্তবর্তী চার জেলার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
