36.5 C
Kolkata
June 12, 2026
রাজ্য

শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় কারা পেলেন কোন দপ্তর? নজরকাড়া টিম

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে প্রকাশিত হল পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার তালিকা। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। মন্ত্রিসভার দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, দক্ষিণবঙ্গ থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চল— প্রায় সব এলাকার প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রাখা হয়েছে স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য উন্নয়ন, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, ত্রাণ, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি, কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই তাঁর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষকে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব। ঝাড়গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে রাজ্য বিজেপিকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। ফ্যাশন জগত থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেত্রী বর্তমানে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মহিলা মুখ। শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন এবং নগর পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার দিকে নজর থাকবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মুখ নিশীথ প্রামাণিককে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তর। কোচবিহারের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

মতুয়া সমাজের পরিচিত মুখ অশোক কীর্তনীয়া পেয়েছেন খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দপ্তর। অন্যদিকে জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি ক্ষুদিরাম টুডুর হাতে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। এর মাধ্যমে জঙ্গলমহল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্য, শিল্প পুনর্গঠন এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাপস রায়কে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শারদত মুখোপাধ্যায়। চিকিৎসা ক্ষেত্রের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্বপন দাশগুপ্তকে। অর্থনীতি, নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাজ্য সরকারের কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যানপালন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষিবিজ্ঞানী কল্যাণ চক্রবর্তীকে।

মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, রাঢ়বঙ্গ, কলকাতা এবং সীমান্তবর্তী জেলার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আদিবাসী, মতুয়া, রাজবংশী এবং তফসিলি সমাজের প্রতিনিধিদেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক তরুণ মুখকেও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন সরকার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব— দুইয়ের সমন্বয়ে কাজ করতে চাইছে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার গঠন থেকে স্পষ্ট যে সরকার আঞ্চলিক ভারসাম্য, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং প্রশাসনিক দক্ষতার উপর সমান গুরুত্ব দিয়েছে। আগামী দিনে এই মন্ত্রিসভা রাজ্যের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় যেমন রয়েছেন অভিজ্ঞ সংগঠক, তেমনই জায়গা পেয়েছেন চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ এবং তরুণ নেতারাও।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে স্বরাষ্ট্র (Home Department), ভূমি ও ভূমি সংস্কার (Land and Land Reforms), তথ্য ও সংস্কৃতি (Information and Culture) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অন্যতম প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) পেয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন (Panchayat and Rural Development) এবং কৃষি বিপণন (Agricultural Marketing) দপ্তর।

অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) পুর ও নগরোন্নয়ন (Urban Development) দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন। উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মুখ নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik) দায়িত্ব পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন (North Bengal Development) এবং জলসম্পদ উন্নয়ন (Water Resources Development) দপ্তরের।

স্বাস্থ্য (Health) দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন চিকিৎসক শারদত মুখোপাধ্যায়। অর্থ (Finance) দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে (Swapan Dasgupta)। শিল্প ও বাণিজ্য (Industry and Commerce), পর্যটন (Tourism), তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technology), কৃষি (Agriculture), বন ও পরিবেশ (Forest and Environment) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্য। মতুয়া, আদিবাসী, রাজবংশী এবং তফসিলি সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে বিস্তৃত সামাজিক সমীকরণ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্ত্রিসভা প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক শক্তির সমন্বয়ে নতুন বার্তা দিতে পারে।

Related posts

Leave a Comment