পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু হাওড়ার উদয়নাৰায়ণপুরে সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন ১২টি বিজেপি সমর্থক পরিবার। বৃহস্পতিবার তাঁদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে।
উদয়নাৰায়ণপুর বিধানসভার খোসালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এই পরিবারগুলির দাবি, গত ৫ মে থেকে প্রায় ৫০ জন সদস্য নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি। বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার পর গত দু’দিন ধরে সাঁকরাইলের কান্দুয়া এলাকার একটি ক্লাবে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবারগুলির অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী প্রভাকর পণ্ডিতের সমর্থনে সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছিলেন তাঁরা। যদিও উদয়নাৰায়ণপুর কেন্দ্রে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীর পাঁজা। এরপরই স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মধাই দলুইয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রাণভয়ে এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তাঁরা।
ঘরছাড়া পরিবারগুলির আরও দাবি, হামলার সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর উপরও অত্যাচার চালানো হয়। পিঁড়ো থানায় অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের। বর্তমানে দু’বেলা খাবারের জন্য অন্যের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবারগুলির সদস্যরা।
এক কলেজছাত্রী জানান, এই পরিস্থিতির কারণে তাঁর পড়াশোনা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্য এক মহিলা বলেন, সন্তানদের বাপের বাড়িতে রেখে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে থাকতে হচ্ছে। তাঁদের একটাই দাবি— নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।
ঘরছাড়া পরিবারগুলির আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন সাঁকরাইল বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডল সভাপতি পলাশ হাজরা। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত এই পরিবারগুলিকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী প্রভাকর পণ্ডিত জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় থানাকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। অতীতের হিংসার অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ এখনও আতঙ্কিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা অভিযুক্ত মধাই দলুইয়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
