তিজুয়ানা — নানা নাটকীয়তা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করল Iran national football team। মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিজেদের বেস ক্যাম্পে মঙ্গলবার প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।
বিশ্বকাপের আগে ইরান দলের প্রথম অনুশীলন ঘিরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। অনুশীলন সেশনটি সাধারণ দর্শক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আয়োজকদের তরফে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যদিও অনুশীলন মাঠে প্রবেশের অনুমতি ছিল না, তবুও স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। তিজুয়ানার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাইরে ভিড় জমান বহু সমর্থক। অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছনোর সময় কয়েকজন ভক্ত ফুটবলারদের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান।
ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন ইরানের তারকা স্ট্রাইকার Mehdi Taremi। তিনি সমর্থকদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন, অটোগ্রাফ দেন এবং বিশ্বকাপের স্মারক অ্যালবামে স্বাক্ষর করেন।
প্রথমে ইরানের পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে বেস ক্যাম্প গড়ে তোলা। কিন্তু ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে দলটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রস্তুতি শিবির হিসেবে তুরস্কে অনুশীলন চালায়।
তুরস্ক থেকেই ইরান দলের সদস্যদের মেক্সিকোর ভিসা দেওয়া হয়। এরপর স্পেনে যাত্রাবিরতি করে দলটি মেক্সিকোয় পৌঁছায়। বর্তমানে তিজুয়ানাতেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালাবে তারা।
সূত্রের খবর, ইরানের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং কয়েকজন সহায়ক কর্মীকে বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হলেও দলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ভিসা এখনও অনুমোদিত হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে FIFA-র কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা বাতিল করে মেক্সিকোয় বেস ক্যাম্প গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে রাজনৈতিক জটিলতা কিছুটা এড়িয়ে দল মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ইরানের এই প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
