কলকাতা, ৬ জুন ২০২৬: ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের অভিযোগগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত-কে এই সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগের তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও আন্দোলনের জেরে অশান্তির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। সেই সময় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, বাসে আগুন লাগানো, রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই সমস্ত অভিযোগ পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তদন্ত পরিচালনার জন্য রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে। পুরনো অভিযোগপত্র, মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে নতুন করে তদন্ত শুরু হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, রেল সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগগুলির তদন্তে রেল পুলিশের সহযোগিতাও নেওয়া হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, স্টেশন চত্বরে ভাঙচুর বা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত দায় নির্ধারণ করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদ, হাওড়ার উলুবেড়িয়া-সহ একাধিক এলাকায় অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছিল। বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এবার নতুন করে তদন্ত শুরু হতে চলেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
