কলকাতা, ৩ জুন: বিধানসভার স্বাক্ষর বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই আরও তীব্র হল। এ বার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি তদন্তের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, শুক্রবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিআইডি যাতে তদন্তের নামে কোনও কড়া পদক্ষেপ নিতে না পারে, সেই মর্মে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ চেয়েছেন তৃণমূল নেতা।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠিকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। অভিযোগ, চিঠিতে থাকা একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, তালিকাভুক্ত কয়েকজন বিধায়কের নাম ব্লক লেটারে লেখা হলেও তাঁদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। আবার কিছু ক্ষেত্রে স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল। সেই সূত্র ধরেই গত সপ্তাহে সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে একটি নোটিস দেন। তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত দিনে তিনি উপস্থিত হননি। পরে তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেন, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরবর্তীতে ওই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভার এই স্বাক্ষর বিতর্ক এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রাজ্যের শাসক ও বিরোধী রাজনীতির অন্যতম বড় সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া সেই সংঘাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।
