তাইপেই — প্রিয় ব্যান্ডের কনসার্টের টিকিট পেতে কত কিছুই না করেন অনুরাগীরা। তবে তাইওয়ানের বিটিএস অনুরাগীরা এবার ভরসা রাখলেন দেবতার আশীর্বাদের উপর। দক্ষিণ তাইওয়ানের কাওশিয়ুং শহরে বিটিএসের আসন্ন কনসার্টের টিকিট পাওয়ার আশায় শতাব্দীপ্রাচীন একটি তাওবাদী মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করলেন তাঁরা।
তাইপেইয়ের ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকা লংশান মন্দিরে শনিবার সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন কেপপ অনুরাগীরা। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন বিটিএসের ভক্ত। মন্দিরে প্রেম ও বিবাহের দেবতা ইউয়ে লাওয়ের উদ্দেশে বিশেষ প্রার্থনা করেন তাঁরা।
অনুরাগীদের বিশ্বাস, ইউয়ে লাও মানুষের ভাগ্যকে লাল সুতোয় বেঁধে দেন। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁদের আশা, দেবতার আশীর্বাদে কনসার্টের কাঙ্ক্ষিত টিকিটও মিলতে পারে।
প্রার্থনার সময় ভক্তরা বেগুনি রঙের মোড়কে মোড়া খাবার, বিটিএসের স্মারকসামগ্রী, কনসার্টের আসন বিন্যাসের মানচিত্র এবং নিজেদের ইচ্ছার তালিকা মন্দিরে নিবেদন করেন। বেগুনি রং বিটিএসের সরকারি রং হিসেবে পরিচিত।
এক অনুরাগী জানিয়েছেন, তিনি বিটিএস সদস্যদের প্রচারিত ইনস্ট্যান্ট নুডলস, জনপ্রিয় তাইওয়ানি স্ন্যাকস এবং পুডিং নিবেদন করেছেন। তাঁর মতে, হাতে লিখে ইচ্ছাপত্র জমা দিলে তা আরও আন্তরিকভাবে দেবতার কাছে পৌঁছায়।
কয়েক বছর আগে সমাজমাধ্যমে এই ধরনের প্রার্থনার প্রবণতা শুরু হয়। তারপর থেকেই কনসার্টের টিকিট পাওয়ার আশায় বহু অনুরাগী এই মন্দিরে আসছেন। অনেকের দাবি, এখানে প্রার্থনা করার পর তাঁরা অতীতে কাঙ্ক্ষিত টিকিট পেয়েছেন।
মন্দিরের চেয়ারম্যান লিন পেই-হুওও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ, প্রার্থনার সময় নিজের প্রিয় শিল্পীর সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে ইচ্ছাপূরণের সম্ভাবনা আরও বাড়ে।
উল্লেখ্য, চার বছরের বিরতির পর বিটিএস আবার বিশ্ব সফরে ফিরছে। বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা শেষ করে সদস্যদের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বিশ্বজুড়ে অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
আরিরাং’ বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে কাওশিয়ুংয়ে বিটিএসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় আট বছর পর তাইওয়ানে পূর্ণ সদস্যসংখ্যা নিয়ে বিটিএসের মঞ্চে ফেরার সম্ভাবনা থাকায় টিকিটের চাহিদা আকাশছোঁয়া।
previous post
