দিল্লি — দ্রুত পরিবর্তনশীল ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার বার্তা দিল। সোমবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে দুই দেশই জানিয়ে দিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লসের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
রাজনাথ সিং বলেন, গত বছর বার্ষিক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের স্মৃতিচারণ করে রাজনাথ সিং বলেন, এই বার্ষিক সংলাপ দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের নেতৃত্বে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের উন্নতিরও প্রশংসা করেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, বিশেষ করে প্রথম মহিলা প্রতিরক্ষা সচিব এবং প্রথম মহিলা সশস্ত্র বাহিনী প্রধান নিয়োগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে রিচার্ড মার্লস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তাঁর কথায়, দুই দেশ ‘আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি কৌশলগতভাবে একসুরে রয়েছে’।
তিনি বলেন, বার্ষিক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এটি পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতিফলন।
বৈঠকে সামরিক বাহিনীগুলির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন, প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা, সহ-উন্নয়ন এবং সহ-উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান সামরিক সহযোগিতা কর্মসূচির অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যৌথ সামরিক মহড়া, সমুদ্র সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।
previous post
