২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরাখণ্ড থেকে বড় সাংগঠনিক কর্মসূচি শুরু করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তিন দিনের উত্তরাখণ্ড সফরকে কেন্দ্র করে বুথ সংগঠন শক্তিশালী করা, গ্রামীণ এলাকায় প্রভাব বাড়ানো এবং দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত করার বার্তা দিল বিজেপি নেতৃত্ব।
বিজেপির অন্দরে এই সফরকে শুধুমাত্র সাংগঠনিক পরিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং আগামী নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে বিজেপির প্রস্তুতির সূচনা হিসেবেই ধরা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ভোটমুখী প্রতিটি রাজ্যেই আগামী দিনে এ ধরনের সফর করতে পারেন নীতিন নবীন।
২৮ মে দেরাদুনে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দর থেকে বিজেপির রাজ্য দফতর পর্যন্ত একাধিক জায়গায় তাঁকে স্বাগত জানান দলীয় কর্মীরা। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেন, এই সফর দলের সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করবে।
সফরে সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতি, মোর্চা নেতাদের পাশাপাশি বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি। মূলত দুর্বল বুথ চিহ্নিত করা, গ্রামীণ এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল আসনে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উপরেই জোর দেওয়া হয়।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ মহেন্দ্র ভাট জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রামে গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নীতিন নবীন। পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের তালিকা তৈরি করে সামাজিক ভিত্তি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সেই সব আসন, যেখানে বিজেপি অল্প ব্যবধানে জিতেছিল বা হার হয়েছিল। ওই সব এলাকায় সাংসদ-বিধায়কদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কোথাও কোথাও পূর্ণ সময়ের সংগঠকও নিয়োগের ভাবনা রয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, মেয়র, পুরপ্রধান, জেলা পরিষদ প্রতিনিধি, ব্লক স্তরের নেতৃত্বদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন নীতিন নবীন। দলের মিডিয়া সেল, আইটি সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপির লক্ষ্য, ২০২৭ সালের আগে বুথস্তর থেকে সংগঠনকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা। কারণ ওই বছর গোয়া, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর, পঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এর মধ্যে পঞ্জাব ও হিমাচল ছাড়া বাকি রাজ্যগুলিতে বর্তমানে বিজেপিই ক্ষমতায় রয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, আগেভাগেই সংগঠনকে সক্রিয় করে কোনও রকম আত্মতুষ্টির সুযোগ রাখতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব।
