তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার আদালত জানিয়ে দেয়, গত ১৮ মে দেওয়া অন্তর্বর্তিকালীন সুরক্ষাও আর বহাল থাকবে না। ফলে তাঁর গ্রেফতারিতে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
২০১৯ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় আগেই আদালতের রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন ফলতার এই তৃণমূল নেতা। সেই সুরক্ষার মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার মামলাটি পুনরায় হাই কোর্টে ওঠে। সকালে আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। এর পরেই কার্যত জাহাঙ্গিরের আইনি সুরক্ষা শেষ হয়ে যায়।
অন্য দিকে, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে আরও একটি মামলায় হাই কোর্টের অন্তর্বর্তিকালীন রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন জাহাঙ্গির। মঙ্গলবার সেই মামলারও শুনানি হয় বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে। আদালতে রাজ্য পুলিশের রিপোর্ট জমা পড়ে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র ভোটে অংশগ্রহণের সুবিধার জন্যই ওই রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। এফআইআর খারিজের আবেদন করা হয়নি। তাই সেই সুরক্ষা বহাল রাখারও প্রয়োজন নেই। আদালত জানায়, পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী তদন্ত চালানো সম্ভব, সে ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ বজায় রাখার কোনও কারণ নেই।
জাহাঙ্গিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। তবে দুপুরে পুনরায় শুনানির পর আদালত সব রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আদালত সূত্রে খবর, ফলতা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। আগাম গ্রেফতারি এড়াতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গির ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ভোটে লড়বেন না। যদিও তাঁর নাম ব্যালটে ছিল। রবিবার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি সাত হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়েছেন।
যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেড় লক্ষের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন, সেই কেন্দ্রেই এ বার তৃণমূল প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এমনকি জাহাঙ্গির নিজেও ভোট দিতে যাননি বলে খবর।
