ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্র আগামী কয়েক দশকে বিস্ফোরক হারে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। বর্তমানে যেখানে দেশের এআই বাজারের আকার ৯ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি, ভবিষ্যতে তা ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মঙ্গলবার প্রকাশিত কলিয়ার্স ইন্ডিয়ার এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, দ্রুত ডিজিটাল সম্প্রসারণ, এআই প্রযুক্তির বাড়তে থাকা ব্যবহার এবং সরকারের নীতিগত সহায়তা ভারতের কর্মসংস্থান, অফিস স্পেস এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে।
এআই ট্যালেন্ট হাবে পরিণত হচ্ছে ভারত
সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, এআই দক্ষতা এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক মানবসম্পদের জন্য বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলির কাছে ভারত ক্রমশ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে। বৃহৎ জনসংখ্যা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল পরিকাঠামো এই ক্ষেত্রে দেশকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ৩০ লক্ষ STEM (Science, Technology, Engineering and Mathematics) স্নাতক তৈরি হচ্ছেন, যা বিশ্বের দক্ষ প্রযুক্তি কর্মীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান। ১৪০ কোটির বেশি জনসংখ্যা এবং গড় বয়স প্রায় ২৯ হওয়ায় ভারতের জনমিতিক সুবিধাও উল্লেখযোগ্য বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
প্রযুক্তি শহরগুলিতে বাড়ছে চাহিদা
কলিয়ার্স ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দিল্লি-এনসিআর, চেন্নাই, মুম্বই এবং পুনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে।
কলিয়ার্স ইন্ডিয়ার অফিস সার্ভিসেস বিভাগের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্পিত মেহরোত্রা জানান, তুলনামূলক কম পরিচালন খরচ, প্রতিযোগিতামূলক অফিস ভাড়া এবং তরুণ কর্মশক্তির কারণে ভারত ভবিষ্যতেও বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে আকৃষ্ট করবে।
বদলাচ্ছে অফিস ব্যবস্থাও
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এআই, মেশিন লার্নিং, ক্লাউড প্রযুক্তি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং-ভিত্তিক গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারের দ্রুত বৃদ্ধি দেশের প্রিমিয়াম অফিস স্পেসের চাহিদা বাড়াবে।
একই সঙ্গে এআই-নির্ভর কর্মপরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেটের কৌশলও বদলে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
