সংবাদ কলকাতা: রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে এবার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম্’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই মর্মে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। নতুন বিজেপি সরকারের তরফে আগেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনিক নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়।
রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের সরকারি সমাজমাধ্যমের পাতায় শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেন। সেখানে জানানো হয়েছে, স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আওতায় থাকা রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনা সভায় জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হল। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগের সমস্ত নির্দেশ ও প্রচলিত প্রথাকে বাতিল করে এই নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের ভাবনা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আরও শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের শাসক ও বিরোধী— প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে একইসঙ্গে বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর মর্যাদায় যেন কোনওভাবেই আঘাত না লাগে।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করেছে, স্কুলে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় গৌরববোধ আরও জোরদার হবে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গান গাওয়ায় আপত্তির কিছু নেই। তবে রাজ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা, সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই দিকেও নজর রাখতে হবে।
কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্বও জানিয়েছে, ‘বন্দে মাতরম্’ বাধ্যতামূলক করার মধ্যে আপত্তিকর কিছু নেই। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর গুরুত্ব যেন কোনওভাবেই কমানো না হয়। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিআই(এম)-এর তরফেও।সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতীয়তাবোধের প্রকাশ কতটা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত, তা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
