বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে মারাঠি চলচ্চিত্র জগতের কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মারাঠি অভিনেত্রী বর্ষা উসগাঁওকরও প্রতারিতদের মধ্যে রয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে
মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম অবিনাশ জাধব। তিনি নিজেকে একজন নির্মাণ ব্যবসায়ী এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক বলে পরিচয় দিয়ে মারাঠি বিনোদন জগতের কয়েকজনকে ডোম্বিভলির একটি নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন।
এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন মারাঠি থিয়েটার ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী মৃণালিনী সুবাস জামভালে। পুলিশের দাবি, পেশাগত সূত্রে আগে থেকেই জাধবকে চিনতেন তিনি। সেই পরিচয়ের সুযোগ নিয়েই জাধব নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরেন এবং একটি নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ের মধ্যে মোটা লাভের আশ্বাস দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জামভালে, উসগাঁওকর এবং আরও তিনজন মিলে মোট ৪৭ লক্ষ টাকা ওই প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন। বেশিরভাগ অর্থই চেক ও অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল, ফলে পুরো বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য অভিযুক্ত প্রায় ৪.৫২ লক্ষ টাকা ফেরতও দেন। কিন্তু তার পর থেকেই বাকি টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এরপর ধীরে ধীরে জাধবের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফোন ধরা বন্ধ করে দেন তিনি, মেসেজেরও কোনও উত্তর দিতেন না। পরে জানা যায়, তিনি নিজের মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানাও বদলে ফেলেছেন।
শেষমেশ বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই ডোম্বিভলিতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। সেখানে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে জাধব নাকি তাদের হুমকি দেন এবং বাকি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।
এরপরই শিবাজি পার্ক থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। মুম্বই পুলিশ অবিনাশ জাধবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা এবং ৫০৬ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছে এবং একই কৌশলে আরও কেউ প্রতারিত হয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
