31 C
Kolkata
March 5, 2026
দেশ

হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কা: তেলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলিতে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ


ইরান যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে তার প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি অনেকটা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কার জ্বালানি সংকটের মতো হলেও এর পরিধি কয়েকগুণ বড় হতে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। সেই পথ বন্ধ হলে বহু দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে তেলের থেকেও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে পানীয় জলের নিরাপত্তা। উপসাগরীয় অনেক দেশেই প্রাকৃতিক পানীয় জলের উৎস সীমিত। ফলে তাদের বড় অংশই নির্ভর করে সমুদ্রের জল পরিশোধন করে তৈরি করা পানীয় জলের উপর।

একটি ফাঁস হওয়া ২০০৮ সালের মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের প্রায় ৯০ শতাংশ পানীয় জলের সরবরাহ আসে জুবাইলের একটি বৃহৎ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে। ওই প্ল্যান্টটি যদি সাইবার বা শারীরিক হামলায় অচল হয়ে যায়, তবে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই রিয়াধ খালি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, সৌদি আরবে পানীয় জলের প্রায় ৭০ শতাংশই ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে আসে। কুয়েতে এই নির্ভরতা প্রায় ৯০ শতাংশ, ওমানে ৮৬ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে প্রায় ৪২ শতাংশ।

জল সংক্রান্ত সংঘর্ষ নিয়ে গবেষণা করা সংস্থা ‘প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট’-এর ‘ওয়াটার কনফ্লিক্ট ক্রোনোলজি’ ডেটাবেসে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে জলকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে জলসম্পদ নিয়ে ৪২০টি সহিংস ঘটনার নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

২০১০ সালে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র ২১টি। এরপর ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে এবং ২০১৮ সালের মধ্যে বছরে ১৫০টির বেশি ঘটনায় পৌঁছে যায়। ২০১৯ ও ২০২০ সালে সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও ২০২১ সালের পর আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় জলাভাব এবং জলসম্পদ নিয়ে বিরোধ—এই সব কারণেই সংঘর্ষ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, যদি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং তেল অবকাঠামোর পাশাপাশি জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়, তবে উপসাগরীয় দেশগুলিতে সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক সংকট এবং মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

Related posts

Leave a Comment