দিল্লি, ২৯ জানুয়ারি: সংসদে পেশ হওয়া ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬ অনুযায়ী, ভারতের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বেড়ে ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিন বছর আগে যেখানে এই হার ছিল ৬.৫ শতাংশ, সেখানে ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও সরকারি মূলধনী বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতির ভিত আরও শক্ত করেছে বলে সার্ভেতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও বিশ্ব অর্থনীতি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সার্ভেতে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বিমানবন্দর নেটওয়ার্ক দ্বিগুণ হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহণের দ্রুত বৃদ্ধি দেশের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের স্পষ্ট উদাহরণ। এর ফলে লজিস্টিকস সংক্রান্ত বাধা কমেছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক দক্ষতা বেড়েছে।
একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামার কারণে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে অস্থিরতা থাকলেও, স্বর্ণ ও রূপা বাদ দিয়ে মূল মুদ্রাস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। এটি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস ব্যবস্থার শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সার্ভেতে বলা হয়েছে।
ইকোনমিক সার্ভে আরও জানিয়েছে, রাজ্য স্তরে নিয়ম শিথিলকরণের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি আরও সহজে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারছে, যা মাঝারি মেয়াদে দেশের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও বাড়াচ্ছে।
সার্ভেতে কেন্দ্র সরকারের আর্থিক নীতির ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরে স্পষ্ট আর্থিক লক্ষ্য ও নমনীয় নীতির মাধ্যমে সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে জিডিপির ৪.৫ শতাংশের নিচে আর্থিক ঘাটতি নামিয়ে আনার একটি মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে উন্নয়নমূলক ব্যয়, বিশেষত মূলধনী খরচ, বাধাগ্রস্ত না হয়।
বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগ ও সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলেও সার্ভেতে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের বদলে স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা, উদ্ভাবনে জোর দেওয়া এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অটল থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন।
তিনি বলেন, “এই সার্ভেতে উপস্থাপিত তথ্য প্রমাণ করে যে ভারত সঠিক পথেই এগোবে।”
