সংবাদ কলকাতা: রবিবার সাতসকালেই ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সকাল থেকেই মেঘে ঢাকা আকাশ, কোথাও কোথাও ঝড়-বৃষ্টির দাপট। ঘন মেঘের জেরে দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দফায় দফায় বৃষ্টি চলবে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তিশালী হয়ে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসায় উপকূলবর্তী জেলা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তর আন্দামান সাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা ওই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হবে। সেটি ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পৌঁছবে। সোমবার নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। মঙ্গলবার সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বুধবার সকালের মধ্যে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে।

এই নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন অংশে দুর্যোগের পরিস্থিতি থাকতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি কলকাতাতেও বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপট দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক জেলায় হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আরও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দুর্যোগের সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তর ২৪ পরগনায় শুক্রবার ও শনিবার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বৃহস্পতিবার ঝড়-বৃষ্টির দাপট বেশি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু অংশেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

রবিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অন্ধকার নেমে এসে শুরু হয় ঝেঁপে বৃষ্টি। দিনভর এমন পরিস্থিতি চলতে পারে। সোমবারও আবহাওয়ার বিশেষ উন্নতির সম্ভাবনা নেই। বরং মঙ্গলবার থেকেই দুর্যোগের মূল পর্ব শুরু হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রও উত্তাল থাকতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হয়েছে। সোমবারের মধ্যে তাঁদের স্থলভাগে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.১ ডিগ্রি বেশি।
