নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার— সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। তার আগে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে একযোগে নিশানা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে বাংলায় এসে উপনির্বাচনের প্রচারে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রবিবার কোচবিহারে ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে একাধিক বিষয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, শুধু অভিযোগ করলে হবে না, ভোটের ময়দানে নেমে লড়াই করতে হবে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন মমতা। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-পর্বের পুরনো মামলায় মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। কংগ্রেস অবশ্য জানিয়েছে, প্রার্থীর অনুপস্থিতিতেও প্রচার চালিয়ে যাওয়া হবে।
এই পরিস্থিতি নিয়েই দিলীপের কটাক্ষ, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী ভেগে যাচ্ছে তাঁকে ছেড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকি জীবন আদালতে গিয়ে কাটবে। হাইকোর্টে যাক, সুপ্রিম কোর্টে যাক তিনি। কেউ মানা করেনি তাঁকে।’ মমতার দলীয় নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গেও এর আগে একই সুরে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

রাহুল গান্ধীকে নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস কোথায়, কেউ জানেন না। রাহুল গান্ধীর বাংলায় উপনির্বাচনের প্রচারে আসা উচিত। তাহলে উনি বুঝবেন এখানে রাজনীতি কেমনভাবে হয়।’ উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার নিয়ে রাহুল ইতিমধ্যেই পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
এ দিন পঞ্চায়েতমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোচবিহারে গিয়ে একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন দিলীপ। সাগরদিঘির পাশে ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচির পাশাপাশি রবীন্দ্রভবনে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রায় ৬৫০ জন আধিকারিককে নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। পঞ্চায়েতের অডিট এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়েও কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী।
দিলীপ বলেন, ‘দুর্নীতি করলে কেউ ছাড়া পাবে না। মন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম কোচবিহারে এসেছি। কোচবিহারের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতেই এই সফর।’ পঞ্চায়েতগুলিতে কোনও ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উপনির্বাচন প্রসঙ্গে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, ‘বিরোধী দল কোথায় সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বিরোধী প্রার্থী নেই, কিছুই নেই। শুধু অভিযোগ করছেন, এতে কিছু হয় না। ময়দানে লড়তে হয়।’ রবিবারের বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অবাধ পরিবেশে হওয়া উচিত।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমাজবিরোধীদের নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগও তোলেন দিলীপ। তাঁর দাবি, ‘সমাজবিরোধীদের নিয়ে এতদিন রাজনীতি করত তৃণমূল কংগ্রেস। মানুষ সুযোগ পেতেই তাদের হারিয়ে দিয়েছে। এখনও সমাজবিরোধীদের নিয়ে চলার চেষ্টা করছে। তাই আইন আইনের মতো কাজ করছে।’ এটি দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অভিযোগ; এ বিষয়ে তৃণমূলের বক্তব্য আলাদা হতে পারে।
পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ জানান, অডিটের মাধ্যমে অনিয়ম খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক অর্থ তছরুপ হয়েছে। তবে পঞ্চায়েত দপ্তরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অডিটের কথাও জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, নন্দীগ্রামে প্রার্থী বদল এবং কংগ্রেসকে মমতার সমর্থন—সব মিলিয়ে রাজ্যের উপনির্বাচনের লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।
