35 C
Kolkata
May 24, 2026
দেশ

তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কড়া নির্দেশ যোগীর, রাজ্যজুড়ে নজরদারি জোরদার

উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকায় নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রবিবার শক্তিমন্ত্রী অরবিন্দ কুমার শর্মা ও প্রতিমন্ত্রী কৈলাশ সিং রাজপুতের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিল্পক্ষেত্র যেন কোনওভাবেই বিদ্যুৎ সঙ্কটে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে বিদ্যুৎ দপ্তরকে সংবেদনশীল ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, উত্তরপ্রদেশ রাজ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিগমের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ১৩,৩৮৮ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৯,১২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ৫২৬.৪ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগে আরও ৩,৭৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অপ্রচলিত শক্তির উৎস থেকেও উৎপাদিত হচ্ছে।

যোগী আদিত্যনাথ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করার উপর জোর দেন। বর্তমানে রাজ্যে ৬০,৮৫৮ সার্কিট কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন এবং ৭১৫টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে ২,০৫,৬৩২ এমভিএ ক্ষমতা উপলব্ধ রয়েছে। ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতা ৯৯.৩০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও জানানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ নিষ্পত্তি ও ট্রান্সফরমার বিকল সংক্রান্ত বিষয়ে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানান। তিনি নির্দেশ দেন, ঝড়-বৃষ্টি বা অতিরিক্ত গরমের মধ্যেও দ্রুত মেরামতি ও পরিষেবা চালু রাখতে হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০২২-২৩ সালের তুলনায় ট্রান্সফরমার ক্ষতির হার প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। বড় ক্ষমতার ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের ক্ষতির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এপ্রিল-মে মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। ১৫ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা ৫০১ মিলিয়ন ইউনিট থেকে বেড়ে ৫৬১ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। সর্বোচ্চ চাহিদাও ২৯,৮৩১ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৩০,৩৩৯ মেগাওয়াট হয়েছে।

স্মার্ট মিটার পরিষেবাকেও আরও গ্রাহকবান্ধব করার নির্দেশ দেন যোগী। বর্তমানে রাজ্যে ৮৯.২৩ লক্ষ স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে। জুন ২০২৬ থেকে স্মার্ট মিটার গ্রাহকদের পোস্টপেইড ভিত্তিতে বিল দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের জীবন, কৃষি সেচ, ব্যবসা ও শিল্পোন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।”

Related posts

Leave a Comment