July 13, 2026
রাজ্য

বেসরকারি স্কুলে নজরদারি রাজ্যের, ফি ও শিক্ষার মান খতিয়ে দেখার বার্তা

বিকাশ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। ছবি: সংগৃহীত
বিকাশ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্য হতে দেওয়া হবে না

সংবাদ কলকাতা: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি, শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিকাশ ভবনে শিক্ষা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, শিক্ষা কোনওভাবেই বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হতে পারে না। সেই লক্ষ্যেই অনুমোদনপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের উদ্দেশ্য বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করা নয়। বরং ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের স্বার্থ রক্ষা করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে, স্বচ্ছ ফি কাঠামো বজায় রাখে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলে, তাহলে ভবিষ্যতেও তাদের প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নেবে।

বৈঠকে জাতীয় শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনায় অভিভাবকদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে।

সরকারি বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, গ্যাসে মিড ডে মিল রান্না, পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় বিদ্যালয়ে পাখা বসানো এবং ছাত্রীদের জন্য স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ দ্রুত বিদ্যালয়গুলিতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন হলে ফি কাঠামো এবং শিক্ষার মান নিয়ে অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়তে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতার মধ্যে থেকেই পদক্ষেপ করা প্রয়োজন বলেও তাঁদের মত।

Related posts

Leave a Comment