কলকাতা — জীবিকার সন্ধানে বিহার থেকে কলকাতায় এসেছিলেন একই পরিবারের ছয় সদস্য। কিন্তু কাজের সন্ধানে এসে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হলেন তাঁদের মধ্যে তিন ভাই। তারাতলার গোডাউন ধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রায় ৫৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার হল শিরচাঁদ কুমারের দেহ। এর ফলে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭। এখনও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
তদন্তকারী ও উদ্ধারকারী দলের সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার দিনই মৃত্যু হয়েছিল ঘি কুমারের। পরে বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান মন্নু কুমার। আর দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর উদ্ধার হয় তৃতীয় ভাই শিরচাঁদ কুমারের দেহ।
প্রশাসন জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার কারণে শিরচাঁদের দেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে, মুখ দেখে তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহার থেকে একই পরিবারের ছয় সদস্য কাজের খোঁজে কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা। কিন্তু তারাতলার ওই গোডাউন ধস মুহূর্তের মধ্যে সব স্বপ্ন ভেঙে দেয়। একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁদের গ্রামে।
উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন। সেই কারণেই ভারী যন্ত্রের সাহায্যে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। গোডাউনের নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
