November 3, 2026
রাজ্য

১২৫ দিনের কাজে ঢিলেমি, বিডিওদের নিয়ে বৈঠকে শুভেন্দু

সংবাদ কলকাতা: ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজের গতি নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রকল্পের বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে, কোন ব্লকে কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় কম এবং তার পিছনে দায় কার— এ বার সরাসরি ব্লক স্তরের আধিকারিকদের কাছ থেকেই তার জবাব চাইতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় সল্টলেকের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সদর কার্যালয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের (বিডিও) নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিকের। প্রতিটি জেলার কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। কোন ব্লকে কতটা কাজ হয়েছে, কোথায় প্রকল্পের গতি মন্থর, নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কী ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে— এই সমস্ত বিষয়ে বিডিওদের কাছে সরাসরি ব্যাখ্যা চাইতে পারেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শুধু সামগ্রিক রিপোর্ট নয়, ব্লকভিত্তিক কাজের খুঁটিনাটিও পর্যালোচনায় গুরুত্ব পাবে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে কোনও রকম গাফিলতি বা দায়িত্বে শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলে আধিকারিকদের সতর্ক করেছিলেন। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বিডিওদের বদলির মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।


গত সপ্তাহের সেই বৈঠকের পর প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতেই এ বার বিডিওদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের একাংশের মতে, এই বৈঠক থেকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি যেসব ব্লকে প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়, সেখানকার আধিকারিকদের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইনের আওতায় গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বার্ষিক কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সারা দেশে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এই প্রকল্পে যোগ্য গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শ্রমের কাজ করতে আগ্রহী হলে বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের আইনি নিশ্চয়তা পান।

তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ব্লকে কাজের গতি নিয়ে অভিযোগ উঠছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। প্রকল্পের সুবিধা যাতে যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলির কাছে পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ের কাজের উপর নজরদারি বাড়াতে চাইছে রাজ্য সরকার। বুধবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কী নির্দেশ দেন এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর প্রশাসনিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment