21 C
Kolkata
February 17, 2026
দেশ বিদেশ

২৭ বছরের মহাকাশযাত্রার ইতি, নাসা থেকে অবসর নিলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস

নাসার প্রখ্যাত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস ২৭ বছরের দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনের পর অবসর গ্রহণ করেছেন। নাসা সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে তাঁর অবসর কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) তিনটি মিশনে অংশ নিয়ে মানব মহাকাশ অভিযানে একাধিক নজির গড়েছেন সুনীতা।

নাসার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক সময় মহাকাশে কাটানো মহাকাশচারী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। মোট ৬০৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। পাশাপাশি, একটানা দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার নিরিখে তিনি ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন, যেখানে তিনি ও মহাকাশচারী বুচ উইলমোর দু’জনেই ২৮৬ দিন করে মহাকাশে ছিলেন বোয়িং স্টারলাইনার এবং স্পেসএক্স ক্রু-৯ মিশনের সময়।

মহাকাশে হাঁটার ক্ষেত্রেও নজির গড়েছেন সুনীতা। তিনি মোট ৯ বার স্পেসওয়াক করেছেন, যার মোট সময়কাল ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। এর মাধ্যমে তিনি মহাকাশে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসওয়াক করা নারী হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন এবং সামগ্রিকভাবে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। এছাড়াও, মহাকাশে প্রথম ম্যারাথন দৌড়ানো ব্যক্তিও ছিলেন তিনি।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “সুনীতা উইলিয়ামস মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে একজন পথপ্রদর্শক। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তাঁর নেতৃত্ব এবং বৈজ্ঞানিক অবদান ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সুনীতার কৃতিত্ব আগামী প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং অসম্ভবকে সম্ভব করতে অনুপ্রাণিত করবে।

২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে স্পেস শাটল ডিসকভারি-তে চেপে প্রথমবার মহাকাশে পাড়ি দেন সুনীতা। পরে ২০১২ সালে কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে অভিযান ৩২/৩৩ মিশনে অংশ নেন এবং সেই মিশনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে অভিযানে যান এবং ২০২৫ সালের মার্চে পৃথিবীতে ফেরেন।

নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের ডিরেক্টর ভ্যানেসা ওয়াইচে বলেন, “সুনীতা একজন অসাধারণ নেতৃত্বদানের উদাহরণ। তাঁর কাজ ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযাত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

অবসর গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় সুনীতা উইলিয়ামস বলেন, “মহাকাশই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। তিনবার মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের বিরাট সম্মান। নাসায় আমার ২৭ বছরের যাত্রা সহকর্মীদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হতো না।” তিনি আরও বলেন, চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের পথে নাসা যে নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে, তা তিনি গর্বের সঙ্গে দূর থেকে প্রত্যক্ষ করবেন।

Related posts

Leave a Comment