মধ্যমগ্রামে (Madhyamgram) চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি (BJP) এবং তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত খুন’ (‘calculated murder’) বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সিবিআই (CBI Investigation) তদন্তের দাবি তুলে বিজেপির বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ এনেছে।
এই ঘটনায় সরব হয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটা পরিকল্পনা করে করা খুন। তিনি আরও বলেন, বিজেপি (BJP Workers) সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদন জানালেও দুষ্কৃতীদের (Miscreants) নামিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তাঁর মন্তব্য, ‘এখন মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ গাড়ি থামিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, এই হামলার লক্ষ্য ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপিকে বার্তা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও দুষ্কৃতীদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষকেই ঠিক করতে হবে তারা কী করবে।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে এবং বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, তৃণমূল (TMC) দাবি করেছে, নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি থাকা সত্ত্বেও গত তিন দিনে ভোট-পরবর্তী হিংসায় (Post Poll Violence) তাদের তিন কর্মী খুন হয়েছেন। দলের অভিযোগ, বিজেপি (BJP)-সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
তৃণমূলের দাবি, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। যদিও এই অভিযোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তৃণমূলের দাবি, আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত (Court Monitored CBI Probe) হলে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছে তারা। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং সেই কারণে আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক হিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত। ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
