31 C
Kolkata
October 21, 2026
টিভি-ও-সিনেমা

কন্যারূপে পুজো, পান্তা ভাত ও ইলিশ ভোগ: সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের পুজোবাড়ির অন্দরমহল

টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও উদ্যোক্তা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে দুর্গাপুজো মানেই অন্য এক আবেগের গল্প। সেখানে মা দুর্গা নিছক কোনো দেবী নন, তিনি ঘরের মেয়ে। পঞ্চমীতে কিশোরীরূপে মণ্ডপে আসা ‘মেয়ে’-কে ঘিরেই আবর্তিত হয় তাঁদের সমস্ত ক্যালেন্ডার। ষষ্ঠীতে বোধন, সপ্তমীতে রূপসী এবং অষ্টমীতে বেনারসি-গয়নায় সেজে ওঠা মায়ের এই রূপের পরিবর্তন চলে নবমীর সন্ধিপুজো পর্যন্ত। সন্ধিপুজোর পর মায়ের মধ্যে দেবীর তেজ ফুটে ওঠে, তখন তাঁকে ‘মা’ সম্বোধন করে পরিবারের সকলে ক্ষমা চেয়ে নেন। দশমীর বিসর্জনে মায়ের পাশাপাশি চোখের জলে ভেসে ওঠেন বাড়ির সবাই।

সুদীপাদের পুজোবাড়ির খাওয়া-দাওয়া ও ভোগেও রয়েছে এক অভিনব পরম্পরা। দশমীর দুপুরে মায়ের সঙ্গে বসে পরিবারের সবাই বছরের শেষ ইলিশ মাছ খাওয়ার নিয়ম মেনে চলেন। তাঁদের বিশ্বাস, প্রতিমা জলে পড়ার পর মা যেন মাছেদেরও আশ্রয় দেন এবং সেই সময় খোকা ইলিশ মেলে, তাই আর ইলিশ খাওয়া হয় না। পুজোয় দু’দিন মাকে ইলিশ ভোগ দেওয়া হয়—নবমীতে পদ্মার ইলিশ এবং দশমীতে গঙ্গার ইলিশ। দশমীর ভোগে পান্তা ভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, ইলিশের তেল, কচুর শাক ও শাপলার টক রাখার পেছনেও রয়েছে এক সুন্দর লোকবিশ্বাস। লোককথা অনুযায়ী, শিবকে মায়ের মিথ্যা বলতে না হয় যে তিনি মাংস-পোলাও খেয়েছেন, তাই মাকে পান্তা ভাত ও মাছ ভাজা দেওয়া হয়।

ভোগের মিষ্টি নির্বাচনেও রয়েছে প্রাচীন নিয়ম। পচনশীল হওয়ার কারণে তাঁদের বাড়িতে ছানার মিষ্টি ব্যবহার করা হয় না; পরিবর্তে ক্ষীরের মিষ্টি, পায়েস এবং চন্দ্রপুলি বাধ্যতামূলক। একসময়ে বিদেশি দ্রব্য হিসেবে বর্জন করা হলেও বর্তমানে হিংয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া ট্যাংরা মাছের ঝালও রান্না হয়। ভোগ রান্নায় পরিবারের পুরুষ সদস্যরাও হাত লাগান, বিশেষ করে তাঁরাই পায়েস তৈরি করেন। ভাসান সেরে বাড়ি ফিরে পাঁঠার মাংসের কিমার ঘুগনি ও চন্দ্রপুলি খাওয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয় তাঁদের পুজোর মিষ্টি সমাপ্তি।

Related posts

Leave a Comment