মুম্বই, ৫ জুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নিয়ে নিজের মতামত জানালেন বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা Subhash Ghai। তাঁর মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জন করবেন তাঁরাই, যাঁরা নিজেদের সৃজনশীলতা, মানবিকতা এবং আত্মার সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে পারবেন।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে সুভাষ ঘাই লিখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের অনেক মানসিক কাজ সহজ করে দিতে পারে। কিন্তু আগামী দিনের প্রকৃত বিজয়ী হবেন সেই মানুষরা, যাঁরা শিল্প, সঙ্গীত, কবিতা, যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবেন।
চলচ্চিত্র নির্মাতার বক্তব্য, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের অনেক কাজ করে দেবে। কিন্তু ভবিষ্যতের বিজয়ী হবেন তাঁরাই, যাঁরা নিজেদের আত্মা এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। সঙ্গীত, কবিতা, চিত্রকলা, যোগাযোগ এবং সমন্বিত চিন্তার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করে অন্যদের সেবা করতে পারবেন।’
সুভাষ ঘাই গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নানা মতামত প্রকাশ করে আসছেন। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে মানুষের গল্প বলার ক্ষমতার গুরুত্ব কখনও কমবে না। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি সহায়ক হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু মানুষের অনুভূতি, কল্পনাশক্তি এবং সৃষ্টিশীলতার বিকল্প হতে পারে না।
গত বছর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রযুক্তি বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে, দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাবে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধুই সহায়ক, প্রভু নয়। কারণ এটিও মানুষের বুদ্ধিমত্তার সৃষ্টি। তাই মানবিক গল্প বলার ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের আত্মাকে সমৃদ্ধ করতে হবে, তবেই সেই আত্মার ছাপ নিজের কাজে ফুটে উঠবে।’
এদিকে পেশাগত ক্ষেত্রেও নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন সুভাষ ঘাই। গত বছর সামাজিক মাধ্যমে তিনি নতুন ছবির ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে অভিনেতা Riteish Deshmukh-এর একটি বিশেষ রূপের ছবি শেয়ার করে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিলেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল নির্মাতা সুভাষ ঘাই মনে করেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের অনুভূতি, সৃজনশীলতা এবং মানবিক বোধই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে থাকবে।
