কলকাতা— দীর্ঘ ১৯ মাসের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে চ্যাম্পিয়নের হাসি হাসলেন ভারতের তারকা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু। জাপান ওপেনের মহিলা একক ফাইনালে আয়োজক দেশের আকানে ইয়ামাগুচিকে সরাসরি গেমে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এই জয়ের পর আবেগাপ্লুত সিন্ধু জানালেন, কঠিন সময়েও নিজের উপর আস্থা হারাননি বলেই আজ এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
টোকিও মেট্রোপলিটন জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে চার বারের জাপান ওপেন চ্যাম্পিয়ন আকানে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৭ ফলে পরাজিত করেন সিন্ধু। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপান ওপেনের খেতাব জিতলেন। পাশাপাশি ২০১৯ সালের পর প্রথম বার একটি সুপার সেভেন ফিফটি প্রতিযোগিতার শিরোপাও নিজের ঝুলিতে তুললেন।
খেতাব জয়ের পর আবেগ সামলাতে পারেননি দুই বারের অলিম্পিক পদকজয়ী এই শাটলার। তিনি বলেন, ‘এই ট্রফিটা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনেক দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, আমার সময় কি শেষ হয়ে গিয়েছে? কিন্তু আমি নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। সেই বিশ্বাসই আজ আমাকে এই জায়গায় এনে দিয়েছে।’
কঠিন সময়ে যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সিন্ধু। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং বিশেষ করে আমার স্বামী সব সময় পাশে থেকেছেন। সবচেয়ে কঠিন সময়েও ওরা আমাকে ভরসা দিয়েছে। তাঁদের সমর্থন না পেলে এই সাফল্য পাওয়া সম্ভব হত না।’
ফাইনালে ঘরের সমর্থন পাওয়া ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে খেলতে নেমে শান্ত থাকা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানান সিন্ধু। তাঁর কথায়, ‘দ্বিতীয় গেমে এগিয়ে থেকেও কয়েকটি ভুল করেছি। তখন মাথা ঠান্ডা রেখে প্রতিটি পয়েন্টে মনোযোগ দেওয়া খুব জরুরি ছিল। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলও বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।’
তিনি আরও জানান, কোচ বারবার তাঁকে পরের পয়েন্টে মনোযোগ দিতে বলেছেন। সেই পরামর্শই ম্যাচে ফিরে আসতে সাহায্য করেছে। সিন্ধুর মতে, তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি আক্রমণাত্মক খেলা। তবে অপ্রয়োজনীয় ভুল কমাতে পারলেই আরও ধারাবাহিক সাফল্য আসবে।
এই জয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সময় এসেছে বলেও বিশেষ আনন্দ প্রকাশ করেন সিন্ধু। তিনি বলেন, ‘এই পবিত্র সময়ে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই বিশেষ নুভূতি। খুব শীঘ্রই পুরী গিয়ে জগন্নাথদেবের আশীর্বাদ নিতে চাই।’
জাপান ওপেনে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এবার তাঁর লক্ষ্য আগামী বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ। সিন্ধুর বিশ্বাস, এই শিরোপা তাঁকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেবে এবং আগামী বড় প্রতিযোগিতাগুলিতে আরও ভালো ফল করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
