June 3, 2026
রাজ্য

টলিউডে বড় রদবদলের ইঙ্গিত! ফেডারেশন ও ২৬ গিল্ডের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা পাপিয়ার

কলকাতা, ৩ জুন ২০২৬: টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, ভবিষ্যতে টলিউডের সমস্ত কলাকুশলীকে দিল্লিভিত্তিক ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর ফলে শিল্পে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

পাপিয়ার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, বর্তমানে কার্যকর ফেডারেশন ও একাধিক গিল্ডের ভূমিকা ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তিনি জানান, বহুস্তরীয় সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক কার্যকর কমিটি গঠন করা হতে পারে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং কাজের পরিবেশ আরও পেশাদার হয়।

বুধবারের বৈঠকে প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা ও কলাকুশলী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পাপিয়া আশ্বাস দেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ বণ্টন করা হবে এবং মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কাউকে কাজ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। পাশাপাশি শুটিং বন্ধ করে চাপ সৃষ্টি করার সংস্কৃতিও বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি জানান।

কলাকুশলীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও কল্যাণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে পাপিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, কাটমানি আদায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জমা পড়েছে। তিনি প্রশাসনিক তদন্তের পরিবর্তে প্রথমে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দেন। সেই সূত্রেই তিনি ‘ডি-কিউব’ (Detect, Delete, Deport) নীতির কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে অভিযোগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

এছাড়াও টলিউডে কর্মঘণ্টা নির্ধারণের বিষয়েও নতুন ভাবনা সামনে এসেছে। বলিউডের ধাঁচে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার নীতি চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রযোজনা সংস্থা, টেলিভিশন চ্যানেল ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আলোচনা করে কাজের স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়েও পর্যালোচনা করা হতে পারে।

পাপিয়া আরও দাবি করেন, অতীতে যাঁরা নানা কারণে ইন্ডাস্ট্রির মূলধারা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে আরও বেশি সংখ্যক চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ ও অন্যান্য অডিওভিজ্যুয়াল প্রকল্প আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান।

টলিউডের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তবে বুধবারের বৈঠকের পর শিল্প মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে যে, বাংলা চলচ্চিত্র জগতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে নতুন ব্যবস্থা।

Related posts

Leave a Comment