টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার-সহ একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার রাত থেকে লাগাতার বৃষ্টিতে তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক, মহানন্দা, সঙ্কোশ, জলঢাকা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়েছে। ভুটান পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টির জেরে সীমান্তবর্তী হাসিমারা, জয়গাঁ, কালচিনি, হ্যামিল্টনগঞ্জ ও বানারহাট এলাকায় জল ঢুকে বহু বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। কোচবিহারের হরিপুরে অন্তত ৫০টি বাড়ি জলের নীচে চলে গিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন মাইকিং করে সতর্কতা জারি করেছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়কে ধস নেমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা বিশাল পাথরের চাঁই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে চরতোর্ষা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার সড়কের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। উত্তর সিকিমের ডুংজু এলাকায় তিস্তার জলে একটি বেলি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পিখোলা ও ফিদাংয়ের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।
রবিবার সকালে কোচবিহারের হরিপুর এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়। তিনি জলবন্দি বাসিন্দাদের ত্রিপল ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জল বাড়তে থাকায় বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও আগামী শনিবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ চলতে পারে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের আশঙ্কা, এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে উত্তরবঙ্গের নদীগুলির জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেয়ে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
