সংবাদ কলকাতা: ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের পর ভারতীয় দলের বোলিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। তাঁর মতে, বোলারদের ব্যর্থতার কারণেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে ভারতের। এই বোলিং আক্রমণ নিয়ে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তিনি। ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে ভারতীয় বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ মেনে নিতে পারছেন না কাইফ।
এই সিরিজ়ে জসপ্রীত বুমরাহ ও মহম্মদ সিরাজের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের খেলাচ্ছে না ভারত। তাঁদের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন অর্শদীপ সিংহ, ময়ঙ্ক যাদব এবং প্রিন্স যাদব। কিন্তু চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে তাঁদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারদের রান তোলার গতি থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন ভারতীয় বোলারেরা। বিপুল রান দেওয়ার খেসারতও দিতে হয়েছে দলকে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ়’-এ কাইফ বলেন, ‘সত্যিটা হল, ভারত ওদের বোলিংয়ের জন্য হারছে। ওদেরই দোষ দিতে হবে। ২৪৭ অনেক রান। আমরা খারাপ বল করেছি বলেই হেরেছি। প্রচুর রান দিয়েছে। এটাই প্রথম নয়। সাধারণত পাঁচ ম্যাচের সিরিজ়ে ব্যাটারেরা তিনটে ম্যাচ জেতায়। বোলারেরা বাকি ম্যাচ জেতায়। এই সিরিজ়ে বোলারেরা কোনও ম্যাচই জেতাতে পারছে না। এই দল নিয়ে কখনওই বিশ্বকাপ জেতা যাবে না।’
চতুর্থ ম্যাচে ভারতীয় বোলারদের পরিসংখ্যানও কাইফের ক্ষোভের কারণ। ময়ঙ্ক যাদব ও অর্শদীপ সিংহ মিলে আট ওভারে ১০৪ রান দিয়েছেন। অক্ষর পটেল চার ওভারে খরচ করেছেন ৪৫ রান। অন্যদিকে প্রিন্স যাদব দিয়েছেন ৩৬ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারদের বিরুদ্ধে কোনও বোলারই ধারাবাহিক ভাবে চাপ তৈরি করতে পারেননি। ফলে প্রতিপক্ষ বড় রান তুলতে সক্ষম হয়েছে।
শুধু কাইফ নন, ম্যাচের পর বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারও। তাঁর মতে, বোলিংয়ের সময় সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে না পারার ফলেই সমস্যার শুরু হয়। বড় রান তাড়া করতে নেমে ব্যাটারদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর প্রয়োজন থাকলেও দল সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারেনি।
শ্রেয়স বলেন, ‘বোলিং নিয়েই সমস্যার শুরু হয়েছে। আমরা লাইন, লেংথ ঠিক রাখতে পারিনি। দিনের শেষে ২৫০ রান তাড়া করতে গেলে একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হয়। আমরা সেটা পারিনি। বোলিংয়ের সময়েও নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারিনি। ওখানেই পার্থক্য হয়ে গিয়েছে।’
এই হারের পর ভারতীয় দলের বোলিংয়ের গভীরতা এবং বিকল্প বোলারদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বড় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেতে হলে শুধু ব্যাটিংয়ের উপর নির্ভর করলে চলবে না, বোলারদেরও ম্যাচ জেতানোর মতো পারফরম্যান্স করতে হবে। কাইফের বক্তব্যে সেই উদ্বেগই স্পষ্ট। তবে একটি ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। সিরিজ়ের বাকি ম্যাচগুলিতে ভারতীয় বোলারেরা কী ভাবে ঘুরে দাঁড়ান, এখন সেটাই দেখার।
previous post
