দিল্লি, ৫ জুন — আগামী ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিন তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করে দেশের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন নজির গড়বেন।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে শুধু শাসনকালের দৈর্ঘ্য নয়, জাতি গঠনের ক্ষেত্রে দুই প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
স্বাধীনতার পর ভারত রাষ্ট্রের ভিত গড়ে তোলার সময় জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে উন্নয়নের মূল ভিত্তি ছিল রাষ্ট্র, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পরিকল্পিত প্রশাসনিক কাঠামো। নবস্বাধীন দেশের অর্থনীতি, শিল্প এবং পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারের ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ‘জন ভাগীদারি’ এবং ‘সবকা প্রয়াস’-এর মতো ধারণাকে সামনে রেখে একাধিক কর্মসূচিকে জনআন্দোলনের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্বচ্ছ ভারত অভিযান, ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার, জল সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং বৃহৎ টিকাকরণ অভিযান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, উন্নয়নের প্রকৃত গতি আসে তখনই, যখন নাগরিকরা শুধু সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী না হয়ে তার অংশীদার হয়ে ওঠেন।
সরকারি সূত্রের মতে, ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশে শুধুমাত্র সরকারি ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে বৃহৎ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনা কঠিন। তাই জনগণের অংশগ্রহণকে উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নেহরু এবং মোদী— দুই নেতা দুই ভিন্ন সময়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। একজন স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র নির্মাণের যুগের নেতা, অন্যজন বৃহৎ জনঅংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শাসনব্যবস্থার যুগের প্রতিনিধি। ফলে তাঁদের শাসনদর্শনের তুলনা ভারতের রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
