November 5, 2026
কলকাতা

ডোনার পাস ও পুজোর দরপত্রে অনিয়মের তদন্ত, ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা

দুর্গাপুজোর ডোনার পাস বিক্রি এবং বিজ্ঞাপনের দরপত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তদন্তে নতুন তৎপরতা কলকাতা পুলিশের। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার লালবাজারে হাজির হয়ে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন। গত তিন দিন ধরে পুলিশের ডাকে সাড়া না দেওয়ার পর তাঁর এই উপস্থিতি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সূত্রের খবর, তাঁকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা।

এর আগে নির্ধারিত হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police) তাঁকে নতুন নোটিশ পাঠিয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর মধ্যে লালবাজারে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন তিনি তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হন। ডোনার পাস বিক্রি এবং তাঁর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ বলে সূত্রের খবর।

তদন্তে মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দাকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, তাঁদের দু’জনের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধ ও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। সেই কারণেই পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্যের সঙ্গে আগের বয়ান মিলিয়ে দেখতে চাইছেন তাঁরা।

তদন্তের মূল অভিযোগ, ২৪টি দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের জন্য ‘ডোনার পাস’ বিক্রি এবং পুজোমণ্ডপের বাইরে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল সেন তাঁর ঘনিষ্ঠ তিনটি সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। মহালয়া থেকে টানা ১২ দিন ২৪টি পুজোমণ্ডপের বাইরে এলইডি পর্দায় বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
এছাড়াও প্রাক্তন মন্ত্রীর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ জমা পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর মেয়ের সংস্থার একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সূত্রের খবর। ওই অর্থের উৎস এবং লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতেই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা এখন ডোনার পাস বিক্রি, সরকারি দরপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক নথি খতিয়ে দেখছেন। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। আগামী দিনে এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment