দিল্লি — লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হওয়ার আবহে মমতা-অনুগত শিবিরের অন্যতম সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তাঁর দাবি, বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা আর তৃণমূলের নেতৃত্বকে মানছেন না। তাঁদের প্রকৃত নেতা এখন নরেন্দ্র মোদী। যদিও এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, দলের একাধিক সাংসদ বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক নৈতিকতা থাকে, তবে নিজেদের তৃণমূলের সাংসদ বলে পরিচয় দেবেন না।’ একই সঙ্গে তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়ারও চ্যালেঞ্জ জানান।
কল্যাণের দাবি, দলের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নেতৃত্বকে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সেই ধরনের কোনও লিখিত অভিযোগ বা ই-মেল তাঁর জানা নেই। বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণ সামনে আনা হোক।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অবশ্য পাল্টা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম। রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছি। আমার মাথা কাটা যেতে পারে, কিন্তু আমি মাথা নত করব না।’
কাকলি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর আপত্তি ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনের একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া এই মতপার্থক্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে একাধিক সাংসদের প্রকাশ্য অবস্থান পরিবর্তনের জল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।
