31 C
Kolkata
October 22, 2026
খেলা

রেকর্ড রান তাড়া করে ভারতের অবিশ্বাস্য জয়

ক্রাইস্টচার্চ— ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল ভারত। শুরুতে দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল দল। সেখান থেকে অধিনায়কের মতো দায়িত্ব নিয়ে দলকে টেনে তুললেন শ্রেয়স আয়ার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন অক্ষর পটেল ও নমন ধীর। শেষ দিকে নমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দু’বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়ল এই জয়।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার নজির ছিল ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২০৯ রান। কয়েক দিন আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ২২২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাল করেও হারতে হয়েছিল ভারতকে। এ বার অবশ্য সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়নি। ব্যাটারদের দাপটে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ভারত।

২২৬ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন সঞ্জু ও অভিষেক। নিউ জ়িল্যান্ডের পেসারদের গতি কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তাঁরা। প্রথম দিকে সঞ্জু ছিলেন বেশি আগ্রাসী, পরে হাত খোলেন অভিষেকও। লকি ফার্গুসনের করা চতুর্থ ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। পাওয়ার প্লে-তে রান ওঠে ৯৪।

তবে নিউ জ়িল্যান্ডের স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল বল করতে আসতেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ব্রেসওয়েলের বলে আউট হন অভিষেক। ১২ বলে ২৯ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে। এর পরেই ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তিন নম্বরে ঈশান কিশনকে না পাঠিয়ে তিলক বর্মাকে নামানো হয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ঈশানকে আগে পাঠালে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত বলে মনে করছেন অনেকে।

তিলক তিন নম্বরে নেমে ছন্দ খুঁজে পাননি। রান তোলার গতি কমে যায় ভারতের। এর মধ্যেই স্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সঞ্জু। ৩৩ বলে ৬৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। পরের ওভারেই ব্রেসওয়েলের বলে আউট হন তিলক। ১১ বলে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৬ রান। পাঁচ নম্বরে নেমে ঈশানও বড় শট খেলতে গিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। একসময় বিনা উইকেটে ৯৩ রান করা ভারত দ্রুত ১২২ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন শ্রেয়স আয়ার ও অক্ষর পটেল। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করেন শ্রেয়স। অন্য দিকে অক্ষর দ্রুত রান তুলে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন। ১৪ বলে ২৪ রান করে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। তবে ম্যাচের শেষ ভাগে আসল চমক দেখান নমন ধীর। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং বুঝিয়ে দেয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফিনিশার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার মতো সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।


শেষ দিকে শ্রেয়স ও নমনের জুটিতে জয়ের আশা জোরালো হয়। স্যান্টনার প্রথম তিন ওভারে মাত্র ২০ রান দিলেও শেষ ওভারে খরচ করেন ১৯ রান। শেষ ১২ বলে ভারতের দরকার ছিল ১৬ রান। ঠিক সেই সময় বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন শ্রেয়স। ২৮ বলে ৪২ রান করে ফেরেন তিনি। তবুও ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন নমন। ১৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল চাপের মুখে ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার বিরল দক্ষতা। নমনের এই পারফরম্যান্স ভারতের ব্যাটিং গভীরতা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিল।

তবে নিউ জ়িল্যান্ডের ফিল্ডিংও ভারতের জয়ের পথ সহজ করে দেয়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ হাতছাড়া করেন কিউয়ি ফিল্ডারেরা। মোট পাঁচটি ক্যাচ পড়ে বলে জানানো হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেয় ভারত। অন্য দিকে ভারতের ফিল্ডিংও খুব একটা সন্তোষজনক ছিল না। দুই দলেরই ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল চোখে পড়েছে।বোলারদের পারফরম্যান্সে প্রশ্ন থাকলেও ব্যাটারদের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় এল ভারতের। সঞ্জুর বিধ্বংসী শুরু, শ্রেয়সের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং নমনের অবিশ্বাস্য ফিনিশিং— তিনের মিশেলে রেকর্ড গড়ল দল। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসে এই জয় ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

Related posts

Leave a Comment