সংবাদ কলকাতা— চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর পুজোর নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ করল নবান্ন। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত সাত জন আইপিএস আধিকারিককে পুজোর দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মুরলীধর শর্মা, রূপেশ কুমার, প্রিয়ব্রত রায়, দীপক সরকার, মিরাজ খালিদ, সৌম্য রায় ও তরুণ হালদার। পুজোর ভিড় সামলানোর পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই তাঁদের দায়িত্বে আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চোরবাগানের মতো বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর ভবানী ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পুজো কমিটির সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথ পদক্ষেপ করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতেই রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিকদের পুজোর দায়িত্বে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, মুরলীধর শর্মা দুর্নীতি দমন শাখায় কর্মরত ছিলেন। রূপেশ কুমার রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। মিরাজ খালিদ ছিলেন রাজ্য ট্রাফিক পুলিশের আইজি পদে এবং প্রিয়ব্রত রায় ওই শাখায় এসপি পদে কর্মরত ছিলেন। অন্য দিকে, তরুণ হালদার ও দীপক সরকার সিআইডিতে দায়িত্বে ছিলেন। সৌম্য রায় আইজির স্পেশাল সুপার পদে কর্মরত ছিলেন। সাত জনেরই কলকাতায় দুর্গাপুজোর সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির মণ্ডপে বিপুল ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই বিপর্যয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনার পর পুজোর আয়োজকদের পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, ভিড় সামলানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। সরু রাস্তা দিয়ে একসঙ্গে বহু দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে একদিকে কিছু দর্শনার্থী মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, অন্য দিকে অনেকে বেরোনোর পথ ব্যবহার করতে চাইছিলেন না। এর জেরে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং ভিড়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ার কথাও সামনে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
চোরবাগানের ঘটনা রাজ্যের বড় পুজোগুলিতে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিজ্ঞ আইপিএস আধিকারিকদের ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন। পুজোর বাকি দিনগুলিতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং বৃষ্টির সময় বিশেষ সতর্কতা— এই বিষয়গুলির উপর নজরদারি বাড়ানো এখন প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
