কলকাতা, ৫ জুন — গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এই ধরনের পদক্ষেপ কেন করা হচ্ছে, তা জানতে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি Joy Sengupta এবং বিচারপতি Smita Das De-র ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সম্মানহানি করা যায় না।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই ধরনের আচরণ অভিযুক্তের মর্যাদাহানির শামিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল।
শুনানিতে আদালত জানতে চেয়েছে, অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরানোর প্রকৃত কারণ কী ছিল। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা ছিল কি না, তাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পুলিশ আইন মেনে গ্রেপ্তার করতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তারের নামে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা যায় না।’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে West Bengal Human Rights Commission-ও। কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, ঘটনাগুলির বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি Howrah City Police-এর একটি ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, এক অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিয়ে শহরের রাস্তায় হাঁটিয়ে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ করা হয়। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়াতেও। সেখানে গ্রেপ্তার এক রাজনৈতিক কর্মীকেও কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে।
