31 C
Kolkata
October 21, 2026
রাজ্য

পুজো মণ্ডপেই প্রেমের বিয়ে

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— সমাজমাধ্যমে পরিচয়, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। প্রায় এক বছরের সম্পর্কের পর শেষ পর্যন্ত বিয়ের বন্ধনে বাঁধা পড়লেন দুই তরুণ-তরুণী। তবে বিয়ের জন্য আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছিল না তাঁদের। প্রেমিকের সঙ্গে দুর্গাপুজো দেখতে বেরিয়ে পরিস্থিতির চাপে আচমকাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। স্থানীয় ক্লাবের উদ্যোক্তা ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে পুজো মণ্ডপেই সম্পন্ন হল বিয়ের নানা রীতি। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর কল্যাণগড় পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের ২৬ বছরের তনু অধিকারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে খড়দহের ১৮ বছর বয়সি সৌমি দফাদারের। সমাজমাধ্যমে পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে সেই বন্ধুত্বই প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক চলছিল। তবে সৌমির পরিবারের তরফে এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি বলে দাবি।

পুজোর সময় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন সৌমি। সেই সময় তাঁর বাড়ি থেকে ফোন আসে। বাড়ি ফিরে গেলে মারধর করা হতে পারে, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হতে পারে, এমনকি অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সেই কারণেই বাড়ি ফিরতে রাজি হননি তরুণী। পরিবারের সদস্যেরা তাঁকে বাড়ি ফেরানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।


এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নেতাজি সংঘের সদস্য, পুজোর উদ্যোক্তা এবং এলাকার কয়েক জন বাসিন্দা আলোচনা করে দু’জনের বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেন। দ্রুত কেনা হয় মালা, টোপর, শাঁখা-সহ বিয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। খবর দেওয়া হয় দুর্গাপুজোর দায়িত্বে থাকা পুরোহিতকেও।

এর পর পুজো মণ্ডপেই শুরু হয় বিয়ের আয়োজন। রাতে দুর্গাপ্রতিমার সামনে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে মালাবদল, সিঁদুরদান-সহ বিভিন্ন রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। আচমকা এই বিয়ের সাক্ষী থাকেন মণ্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থীরা। অনেকে দাঁড়িয়ে থেকে গোটা অনুষ্ঠান দেখেন। কেউ কেউ সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিয়ো মোবাইলে ধারণ করেন। পরে সেই দৃশ্য সমাজমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিয়ের পর তনু জানান, তাঁদের আগে থেকে বিয়ের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। নেতাজি সংঘের সভাপতি অজয় কুমার দে জানান, ঘটনাটি তাঁদের কাছেও অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে দু’জনের সম্পর্কের কথা জানার পর তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। নবদম্পতি যাতে ভালোভাবে সংসার করতে পারেন, সেই কামনাও করেছেন তিনি।

অন্য দিকে, তনুর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, দশমীর দিন বৌভাতের আয়োজন করা হবে। দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই অশোকনগরের এই আকস্মিক বিয়ে এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment