সংবাদ কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হলেও আর দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আবেদন কেন বাতিল হয়েছে, তা এবার নিজেই জানতে পারবেন আবেদনকারীরা। শুধু তাই নয়, পোর্টালে নতুন করে যুক্ত হতে চলেছে ‘এডিট’ বিকল্প। এর মাধ্যমে আবেদনপত্রে থাকা ভুল সংশোধন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ফের জমা দেওয়ার সুযোগ মিলবে। প্রশাসনের আশা, এতে বহু যোগ্য মহিলা প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন এবং বিভ্রান্তিও অনেকটাই দূর হবে।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও বিডিও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ, কোথাও পুরসভার কর্মীদের ঘেরাও, আবার কোথাও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা ছিল, প্রকল্পটি হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। তবে নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, সেই আশঙ্কার কোনও ভিত্তি নেই। যোগ্য মহিলারা আগের মতোই প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন।
নবান্ন সূত্রের খবর, অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যেখানে আবেদনকারী লগ-ইন করে জানতে পারবেন তাঁর আবেদন কোন কারণে বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি আধার, মোবাইল নম্বর বা অন্য তথ্যের ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হবে। ফলে নতুন করে আবেদন না করেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা, আবেদন বাতিল হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বরের অসঙ্গতি। অনেক আবেদনকারীর আধারের সঙ্গে বর্তমান মোবাইল নম্বর যুক্ত নেই। আবার অনেকেই আবেদন করার সময় আধারের সঙ্গে যুক্ত নম্বরের বদলে অন্য নম্বর ব্যবহার করেছেন। এমন ঘটনাও ধরা পড়েছে, যেখানে একই মোবাইল নম্বর একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার হওয়ায় তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের অসঙ্গতির জেরেই বহু আবেদন আপাতত অনুমোদন পায়নি।
সরকারি সূত্রের দাবি, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, আয়করদাতা বা সরকারি চাকরিজীবী মহিলাদের আবেদনও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বাতিল করা হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া আবেদনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্যগত অসঙ্গতিই মূল কারণ বলে প্রশাসনের দাবি।
মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবাল সম্প্রতি জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। ২৭ লক্ষেরও বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাতিল হওয়া আবেদনগুলির পুনরায় যাচাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, নতুন ‘এডিট’ বিকল্প চালু হলে আবেদনকারীরা নিজেরাই তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। এরপর পুনরায় যাচাই করে যোগ্য আবেদনকারীদের প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। ফলে প্রকৃত উপভোক্তাদের অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে আর সমস্যা হবে না বলেই সরকারের আশা।
