November 7, 2026
রাজ্য

হাকিমপুর সীমান্তে কাঁটাতার বিতর্ক, স্থানীয়দের কথা শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী?

সুভাষ পাল, বারাসত: রবিবার হাকিমপুর সীমান্ত (Hakimpur Border) পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই সফর ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সোনাই নদী (Sonai River) সংলগ্ন প্রায় ১৯ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া (Border Fencing) নির্মাণের বিষয়টি। বেড়ার অবস্থান, জমি ও বাড়িঘরের ক্ষতিপূরণ এবং সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগ— একাধিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

স্থানীয়দের প্রধান আপত্তি কাঁটাতারের বেড়ার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বেড়ার ভিতরে বেশ কিছু বাড়িঘর ও কৃষিজমি পড়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ (Land Compensation) দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা। বাসিন্দাদের বক্তব্য, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের বসতবাড়ি, জীবিকা এবং কৃষিকাজের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ছাড়াও সীমান্ত এলাকায় যাতায়াতের সময় তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (Border Security Force বা BSF)-র চেকিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও নানা বিধিনিষেধের কারণে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তের কাছাকাছি কৃষিজমি রয়েছে যাঁদের, তাঁদের নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

নজরদারির ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশে অবৈধ পারাপার ও পাচারের ঘটনা ঘটে বলে যেসব সংবেদনশীল এলাকার কথা বলা হয়, সেখানে সরাসরি নজরদারির বদলে জিরো পয়েন্ট (Zero Point) থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চেকিং করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ বাসিন্দাদেরই বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিএসএফের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।

সূত্রের খবর, রবিবার সীমান্ত সফরে গিয়ে বিএসএফের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্তের নিরাপত্তা, নজরদারি এবং স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর। তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি এবং বিএসএফের কোন পর্যায়ের আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সীমান্ত সফরের পাশাপাশি একটি কালীপুজোর উদ্বোধন করার কথাও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর সফর ঘিরে হাকিমপুর এলাকায় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরেও নিরাপত্তা ও কর্মসূচি পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, জমি ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসএফের বৈঠকে কাঁটাতারের বেড়া, ক্ষতিপূরণ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা আশ্বাস সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Related posts

Leave a Comment