November 5, 2026
রাজ্য

শিল্পের জমি দেবে সরকার, সিঙ্গুর নিয়েও ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা শুভেন্দুর

রাজ্যে নতুন সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতি (New Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শিল্পপতিদের আস্থা অর্জন, নতুন বিনিয়োগ টানা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নীতিতে জমি ও পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে সিঙ্গুরে শিল্পের সম্ভাবনা ফের উজ্জ্বল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগকারীদের জমি জোগাড়ের দায়িত্ব নিজেদের উপর ছেড়ে না দিয়ে রাজ্য সরকারই প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ এবং শিল্পের পরিকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা করবে।

সিঙ্গুরের শিল্প পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করব। অশোক লে-ল্যান্ডের (Ashok Leyland) সঙ্গে আমার প্রাথমিক স্তরের কথা হয়েছে। তবে আমরা আগের সরকারের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে কেবল মৌ (MoU) স্বাক্ষর করেই দায় সারব না, তাই এখনই বিস্তারিত কিছু বলছি না।’’ অর্থাৎ অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখনই কোনও চূড়ান্ত চুক্তি বা প্রকল্পের ঘোষণা করতে চাইছে না সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, শিল্প সম্মেলনের মঞ্চে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তবে প্রকল্প চালু করাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চায় নতুন সরকার।

জমি অধিগ্রহণের প্রশ্নে আগের সরকারের নীতির সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমরা একদিকে যেমন বাম আমলের মতো জমির জন্য কৃষকদের ওপর গুলি চালাতে পারব না, অন্যদিকে আবার বিগত তৃণমূল সরকারের মতো শিল্পপতিদেরও বলতে পারব না যে আপনারা নিজেদের জমি নিজেরাই জোগাড় করে নিন। জমি অধিগ্রহণ ও পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্য সরকার পুরোপুরি শিল্পপতিদের পাশে থাকবে।’’ তাঁর বক্তব্য, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেই শিল্পের প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের জমি নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার সরাসরি উদ্যোগী হবে।
শিল্পের জন্য জমির জোগান বাড়াতে দু’টি কৌশলের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমত, অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে শিল্পপতিদের দেওয়া হলেও যে জমিতে এখনও কোনও শিল্প বা কারখানা গড়ে ওঠেনি, আইন মেনে সেই অব্যবহৃত জমি ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে সরাসরি জমি কিনে একটি বড় জমি-ভাণ্ডার (Land Bank) তৈরি করছে। এই জমি-ভাণ্ডার থেকেই বিনিয়োগকারীদের শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী জমি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিন বিগত সরকারের শিল্প সম্মেলন বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট (Bengal Global Business Summit) নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সম্মেলনের নামে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা অপব্যয় করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১৬ লক্ষ কোটি টাকার কাল্পনিক সমঝোতাপত্রের হিসাব দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। শুভেন্দু জানান, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প দপ্তরের সচিবের কাছে প্রকৃত বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের খতিয়ান চেয়েছিলেন। সচিবের দেওয়া তালিকা খতিয়ে দেখে তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বিনিয়োগকেও বিজিবিএসের সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব শিল্প ও কর্মসংস্থানে পরিণত করাই এখন রাজ্য সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

Related posts

Leave a Comment