ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পরে নতুন করে আবেদন চেয়ে গোটা প্রক্রিয়া ফের চালু করা যাবে না। সংরক্ষিত আসনে যোগ্য প্রার্থী না মিললে পুরনো মেধাতালিকা ও সরকারি নির্দেশিকা মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের (Burdwan University) পিএইচডি ভর্তি সংক্রান্ত মামলায় এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে সাধারণ মেধাতালিকায় সপ্তম স্থানাধিকারী ঋতুপর্ণা চৌধুরীর আবেদন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে।
২০২৫ সালের পিএইচডি কোর্সে সংরক্ষিত আসনে ভর্তির জন্য দ্বিতীয় দফায় নতুন করে অনলাইন আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতুপর্ণা। একক বেঞ্চে প্রতিকার না পেয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন তিনি। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের অবকাশকালীন বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে। একই সঙ্গে একক বেঞ্চের ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্দেশও খারিজ করা হয়েছে।
মামলাকারীর আইনজীবী অভিজিৎ মণ্ডল আদালতে জানান, ২০২৩ সালের ২৬ মে এবং ১৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অসংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থী দিয়ে আসন পূরণ করা যেতে পারে। কিন্তু সেই কারণে নতুন করে বাইরের প্রার্থীদের আবেদন জানানোর সুযোগ তৈরি করার কথা নির্দেশিকায় নেই। প্রথম দফার মেধাতালিকায় থাকা বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যেই বিবেচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
গত ১৫ জুলাই প্রথম দফার কাউন্সেলিংয়ের পর আইন বিভাগের একটি ইডব্লিউএস আসন ফাঁকা থেকে যায়। ওই শ্রেণিতে যোগ্য প্রার্থী না থাকলেও সাধারণ মেধাতালিকায় সপ্তম স্থানে থাকা ঋতুপর্ণা নিজের প্রার্থীপদ বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালের প্রশাসনিক ব্যাখ্যার উল্লেখ করে জানায়, সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের অন্তত দু’বার বিবেচনার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ২০২৩ সালের নির্দেশিকার গুরুত্ব প্রশাসনিক ব্যাখ্যার চেয়ে বেশি। সংরক্ষিত প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনার অর্থ এই নয় যে, নতুন করে গোটা ভর্তি প্রক্রিয়া খুলে দিতে হবে। খেলা শুরু হওয়ার পরে নিয়ম বদলানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা যায় না বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী জানান, নতুন বিজ্ঞপ্তি মেনেও কোনও যোগ্য সংরক্ষিত প্রার্থী পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পুরনো মেধাতালিকা ও সরকারি নিয়ম মেনে ঋতুপর্ণার দাবি বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
