লখনউ— উত্তরাখণ্ডের পর আরও কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর উদ্যোগের মধ্যে এ বার উত্তরপ্রদেশেও এই আইন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি। শুক্রবার লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ফের ক্ষমতায় ফিরলে উত্তরপ্রদেশেও ইউসিসি চালু করা হবে। একই সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে নিশানা করে আগামী ৩০ বছরেও তাঁর দল ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলে দাবি করেন শাহ। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি অখিলেশও।
বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়েছে। এ বার উত্তরপ্রদেশের পালা। তাঁর কথায়, বিজেপি ফের সরকার গঠন করলে রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়িত হবে। উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ড, গুজরাত, আসাম ও মধ্যপ্রদেশে এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরপ্রদেশেও এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের কাছে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শুধু ইউসিসি নয়, অখিলেশ যাদবকেও আক্রমণ করেন শাহ। সমাজবাদী পার্টির প্রধানকে উদ্দেশ করে তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছর উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না সমাজবাদী পার্টি। এমনকি, দলের তৃতীয় প্রজন্মকেও ভোটাররা ক্ষমা করবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শাহের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন অখিলেশ। নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের দিন ঘোষণা হলেই বিজেপিকে হারাতে সাধারণ মানুষ পথে নামবেন। ভোটে জয় বা পরাজয় বক্তৃতা দিয়ে ঠিক হয় না, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ভোটাররাই। ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও শাহের মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন অখিলেশ। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে হার-জিতের বিচার করবেন সাধারণ মানুষ।

প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার লখনউয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি রাজ্য, আঞ্চলিক ও জেলা স্তরের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দলীয় কর্মীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধরী বিরোধীদের নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের কোনও সুনির্দিষ্ট নীতি বা নেতৃত্ব নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তারা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সেই প্রচারের জবাব দিতে দলীয় কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি বুথে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, বুথ কমিটির কাজ নিয়মিত পর্যালোচনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নেতাদের যোগাযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন পঙ্কজ।
বৈঠকে বর্ণ, জাতি ও ধর্মের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জনসংযোগ বাড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়েছে। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতৃত্বকে। সব মিলিয়ে ইউসিসি চালুর প্রতিশ্রুতি এবং সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করে অমিত শাহের বক্তব্যে উত্তরপ্রদেশের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।
