সংবাদ কলকাতা: বেহালার সরশুনায় তিন জনকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ ঘিরে এবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁদের খালি গায়ে, খালি পায়ে এবং কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় হাঁটিয়েছিল বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার পাঠানো নোটিসে মানবাধিকার কমিশন জানতে চেয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাবলি কতটা সত্য এবং সত্য হয়ে থাকলে কোন আইনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছিল। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, খবরের বিষয়বস্তু সত্য হলে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দেয়। তাই পুলিশের পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সন্ধ্যায়। পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক তরুণ তাঁর এক বন্ধুকে নিয়ে সরশুনায় নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কথাবার্তার সময় তরুণ ওই কিশোরীকে চুম্বন করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরীর পরিবারের লোকজন দুই তরুণকে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের আটকে রেখে মারধর ও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর তরুণের বাবাকেও ফোন করে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, তাঁকে-সহ তিন জনকে বন্দুক দেখিয়ে জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করা হয়। তারপর বাড়ির সামনের রাস্তায় তাঁদের বিবস্ত্র অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনার প্রথম পর্বে সাধারণ নাগরিকদের হাতে তিন জনকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। এবার অভিযুক্তদের সঙ্গে পুলিশের আচরণও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়ল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট তলবের পর কলকাতা পুলিশের তরফে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে।
