বরোদা— ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের দুই তারকা স্মৃতি মন্ধানা ও হরমনপ্রীত কৌরের সম্পর্ক কি আগের মতো নেই? জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ়ের শেষ ম্যাচের পর একটি ভিডিয়ো ঘিরে নতুন করে এই প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাচ শেষে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা যখন পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন, তখন স্মৃতি ও হরমনপ্রীতির মধ্যে হাত মেলানোর দৃশ্য দেখা যায়নি। মুহূর্তের এই ঘটনাকে ঘিরেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে দু’জনের মধ্যে সত্যিই কোনও মনোমালিন্য রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুই ক্রিকেটারের কেউই প্রকাশ্যে এমন কোনও বিরোধের কথা জানাননি।
গত বুধবার, ২৮ অক্টোবর জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তৃতীয় এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত। এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ভারতীয় মহিলা দল। কিন্তু মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি ম্যাচের পরের একটি দৃশ্যও ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা যায়, স্মৃতি সাজঘরের দিকে এগোচ্ছিলেন। অন্য দিক থেকে আসছিলেন হরমনপ্রীত। সেই সময় স্মৃতিকে অন্য দিকে তাকাতে দেখা যায়। হরমনপ্রীত তাঁর পাশ দিয়ে এগিয়ে গিয়ে পরের সতীর্থের সঙ্গে হাত মেলান। কিছুক্ষণ পর স্মৃতি আবার অন্য সতীর্থদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সংক্ষিপ্ত দৃশ্য থেকেই অনেকে অনুমান করছেন, দু’জনের মধ্যে হয়তো দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
কিন্তু ভিডিয়োয় হাত না মেলানোর দৃশ্য দেখা গেলেও তার কারণ স্পষ্ট নয়। স্মৃতি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য দিকে তাকিয়েছিলেন, নাকি ঘটনাটি নিছকই পরিস্থিতিগত—তা শুধু ওই দৃশ্য দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তার পক্ষে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।
অধিনায়কত্ব বদলের পর থেকেই জল্পনাগত ৬ অক্টোবর ভারতীয় মহিলা দলের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন হরমনপ্রীত কৌর। এরপরই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড স্মৃতি মন্ধানাকে দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত করে। এই পরিবর্তনের পর থেকেই দুই ক্রিকেটারের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল।
কিছু সংবাদমাধ্যমে ভারতীয় দলের অন্দরমহলে অস্বস্তি তৈরির দাবি করা হয়েছিল। একটি প্রতিবেদনে দলের সূত্রের উল্লেখ করে স্মৃতি ও হরমনপ্রীতের মধ্যে কথাবার্তা বন্ধ থাকার কথাও বলা হয়। তবে এই দাবির বিষয়ে দুই ক্রিকেটারের তরফে কোনও প্রকাশ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন। পাশাপাশি মহিলা প্রিমিয়ার লিগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে নেতৃত্ব দিয়ে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব যে অনেকটাই বেড়েছে, তা স্পষ্ট। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব সামলানোর পর হরমনপ্রীত এখন নতুন ভূমিকায় খেলছেন।

কেন নেতৃত্ব বদল হল?
হরমনপ্রীত অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর বোর্ডের তরফে তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের অবদানের কথা স্বীকার করা হয়েছিল। স্মৃতিকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করার ঘোষণায় তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দক্ষতার কথাও তুলে ধরা হয়। তবে নেতৃত্ব বদলের পিছনে দুই ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত মতবিরোধ ছিল, এমন কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ভারতীয় মহিলা দল সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। অধিনায়কত্বের পরিবর্তনকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন থেকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
এর আগেও ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব বদলকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড়দের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠে বা মাঠের বাইরে কোনও সংক্ষিপ্ত মুহূর্তকে ভিত্তি করে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

আপাতত জল্পনাই ভরসা
জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে ভারতের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় এখন স্মৃতি ও হরমনপ্রীতির সম্পর্কও জায়গা করে নিয়েছে। ভাইরাল ভিডিয়োতে হাত মেলানোর দৃশ্য না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে ঠিকই, কিন্তু তা থেকে দুই ক্রিকেটারের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি প্রমাণিত হয় না।
ভারতীয় দলের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল এই ছন্দ ধরে রাখা। নতুন অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হরমনপ্রীত কৌরের সমন্বয় আগামী দিনে দলের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হবে। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তার উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্যের অভাবে বিষয়টিকে জল্পনা হিসেবেই দেখা উচিত।
